কলকাতার :EM বাইপাস ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী হাইওয়েতে পৃথক পথ দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ছয়জন। যাদবপুরের লেজিবিয়ার রেস্তোরাঁর সামনে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং বাসন্তী হাইওয়েতে স্করপিও-টোটো সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

যাদবপুরে লরির ধাক্কায় প্রাণহানি
EM বাইপাস থেকে অভিষিক্তা হয়ে যাদবপুর ব্রিজে ওঠার ঠিক আগে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা জানান, লেজিবিয়ার রেস্তোরাঁর সামনের রাস্তা পারাপারের সময় আচমকাই একজন পথচারী লরির চাকায় পিষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সবকিছু খুব দ্রুত ঘটেছে। লোকটি হেঁটে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন একটি লরি আচমকাই তার পাশে চলে আসে। রুখে দাঁড়ানোর সময়ও সময় হয়নি।যাদবপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
বাসন্তীতে স্করপিও-টোটো সংঘর্ষ
একই সময়ে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী হাইওয়েতে ঘটে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সোনাখালী তেঁতুলতলা মোড়ের কাছে একটি স্করপিও গাড়ি ও একটি টোটো মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তীব্র ধাক্কায় টোটোটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরও ছয়জন, যাদেরকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয়রা বলেন, “যাত্রীদের উদ্ধার করতে অনেক সময় লাগল। গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় এবং রাস্তার একাংশ বন্ধ থাকায় ওই এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়।”
পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনার তদন্ত
দু’টি দুর্ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পুলিশের কাছে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা এবং দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলছে।EM বাইপাস এবং বাসন্তীর আশপাশের এলাকায় অগত্যা ট্রাফিক রুট পরিবর্তন করতে হয়। নিরাপত্তার দিক থেকে স্থানীয়রা পুলিশি ব্যবস্থা প্রশংসা করেছেন।

দুর্ঘটনার প্রভাব ও সতর্কবার্তা
দুই পৃথক দুর্ঘটনার কারণে EM বাইপাস এবং বাসন্তীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় যানজট তৈরি হয়। স্থানীয়দের মতে, পথচারী এবং যানবাহন চালকদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাড়ির আশেপাশে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং দ্রুততা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এছাড়া বড় যানবাহন চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া উচিত।প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর স্থানীয়রা আহতদের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

স্থানীয় পুলিশ এবং দুর্ঘটনার তদন্তকারী দল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাঁরা বলেন, “দূর্ঘটনার পর আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। আহতদের যথাসম্ভব চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











