পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য কমিশন নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, কোনও হাসপাতাল বা নার্সিং হোম রোগীর মৃতদেহ ৫ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখতে পারবে না। বিল বকেয়া থাকলেও বা মেডিক্লেম সংস্থার টাকা না আসলেও এই নিয়ম পালন বাধ্যতামূলক।

মৃতদেহ আটকে রাখার অভিযোগের প্রেক্ষাপট
কলকাতা: বহুবার দেখা যায়, বেসরকারি হাসপাতালের বিলের বিপুল অঙ্ক জোগাড় করতে পারছে না রোগীর পরিবার। মেডিক্লেম সংস্থার অনুমোদন না আসার কারণে মৃতদেহ আটকে রাখার অভিযোগ উঠে।গত অগাস্ট মাসে একবালপুরের সিএমআরআই হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে রোগীর মৃত্যু হলেও মেডিক্লেম অনুমোদন না আসায় ১৫ ঘণ্টা দেহ আটকে রাখা হয়। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল স্বাস্থ্য কমিশনে।
স্বাস্থ্য কমিশনের নির্দেশিকা
সোমবার কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও হাসপাতাল বা নার্সিং হোম রোগীর মৃতদেহ ৫ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখতে পারবে না। এই নির্দেশের উদ্দেশ্য হলো, রোগীর পরিবারের উপর অযথা মানসিক চাপ কমানো এবং অমানবিক পরিস্থিতি এড়ানো।চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বলা হয়েছে, বিল বকেয়া থাকলেও বা মেডিক্লেম সংস্থার বিল অনুমোদন পেতে বিলম্ব হলেও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য কমিশন এই ক্ষেত্রে অমানবিক আচরণের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও ক্ষমতা রাখে।

রোগীর পরিবারের অধিকার
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকা রোগীর মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা, যাতে তারা আর্থিক বাধ্যবাধকতার কারণে মৃতদেহ আটকে রাখার অনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়াতে না পারে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্য কমিশনের এই নির্দেশনা মৃত্যুর পর প্রয়োগ করা মানবিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করবে।

এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে, হাসপাতাল এবং নার্সিং হোমগুলির দায়িত্ব আরো স্পষ্ট হবে। মেডিক্লেম বিলের বিলম্ব বা বকেয়া থাকলেও মৃতদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে, রোগীর মর্যাদা রক্ষা এবং পরিবারকে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।











