অফিসের কাজ হোক বা পড়াশোনা, সিনেমা দেখা কিংবা অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ—ল্যাপটপ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পর অনেকেরই দেখা যায়, স্ক্রিনে হঠাৎ কীবোর্ডের অক্ষর বা বোতামের আকৃতির দাগ ফুটে উঠছে। বিশেষ করে কালো স্ক্রিনে আলো পড়লে এই ছাপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই একে সাধারণ ধুলো ভেবে কাপড় দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সমস্যার কারণ যদি ঘর্ষণ বা চাপ হয়, তাহলে শুধু মুছে ফেললেই সমাধান হবে না।
কীবোর্ডের ছাপ স্ক্রিনে পড়ে কেন?
ল্যাপটপের স্ক্রিন ও কীবোর্ডের মধ্যকার জায়গা অনেক মডেলেই অত্যন্ত কম। ফলে ঢাকনা বন্ধ করার পর কোনও কারণে কীবোর্ডের বোতাম ডিসপ্লের কাছাকাছি চলে এলে দুই অংশের মধ্যে ঘর্ষণ তৈরি হতে পারে।টাইপ করার সময় আঙুলের ঘাম ও তেল কীবোর্ডে জমে থাকে। সেই তেলতেলে আস্তরণও স্ক্রিনের সঙ্গে সংস্পর্শে এসে দাগ তৈরি করতে পারে। প্রথমে এগুলি সাধারণ ছাপের মতো মনে হলেও নিয়মিত ঘর্ষণ চলতে থাকলে ডিসপ্লের পৃষ্ঠের উপর ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিতে পারে।
কীবোর্ডের উপর কাগজ বা জিনিস রেখে ল্যাপটপ বন্ধ করবেন না
অনেকেই কীবোর্ডকে ধুলো থেকে বাঁচাতে মোটা সিলিকন কভার ব্যবহার করেন। আবার কেউ কেউ কাজের সময় কীবোর্ডের উপর কাগজ, কলম বা অন্য কোনও জিনিস রেখে দেন।এই অবস্থায় ল্যাপটপের ঢাকনা বন্ধ করলে স্ক্রিনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ডিসপ্লেতে চাপের দাগ বা Pressure Mark দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ভেতরের সংবেদনশীল অংশেও ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।তাই ল্যাপটপ বন্ধ করার আগে কীবোর্ডের উপর কোনও অতিরিক্ত বস্তু পড়ে রয়েছে কি না, অবশ্যই দেখে নিন।
ব্যাগে ল্যাপটপ রাখার সময়ও সাবধান
শুধু ল্যাপটপ বন্ধ করার সময় নয়, ব্যাগে রাখার পরেও স্ক্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই কম্পার্টমেন্টে ল্যাপটপের সঙ্গে বই, চার্জার, জলের বোতল বা ভারী জিনিস রাখলে বাইরে থেকে চাপ পড়তে পারে।বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত বা দীর্ঘক্ষণ ব্যাগ বহনের সময় সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। তখন ল্যাপটপের উপরের অংশ ভিতরের দিকে চাপ খেয়ে কীবোর্ডের বোতাম স্ক্রিনের সঙ্গে ঘষা খেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ডিসপ্লের অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্থায়ী দাগ তৈরি হতে পারে।
স্ক্রিন পরিষ্কার করবেন কীভাবে?
স্ক্রিনে কীবোর্ডের ছাপ বা তেলতেলে দাগ দেখা দিলে পরিষ্কার করার সময়ও বাড়তি সতর্কতা দরকার।প্রথমে ল্যাপটপ সম্পূর্ণ বন্ধ করে চার্জারের সংযোগ খুলে নিন। এরপর নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। সাধারণ কাপড় বা কাগজের টিস্যু দিয়ে জোরে ঘষা এড়িয়ে চলাই ভালো।প্রয়োজনে কাপড়ে অল্প পরিমাণ স্ক্রিন ক্লিনিং লিকুইড বা ডিস্টিলড জল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কাপড়টি যেন অতিরিক্ত ভেজা না হয়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—কোনও তরল সরাসরি স্ক্রিনে স্প্রে করবেন না। এতে তরল ডিসপ্লের প্রান্ত দিয়ে ভিতরে ঢুকে সমস্যা তৈরি করতে পারে।দাগ মোছার সময় খুব বেশি চাপ না দিয়ে হালকা হাতে গোলাকারভাবে মুছুন।
বন্ধ করার আগে এই ছোট্ট ট্রিক কাজে লাগান
কীবোর্ড এবং স্ক্রিনের সরাসরি ঘর্ষণ কমাতে ল্যাপটপ বন্ধ করার আগে কীবোর্ডের উপর একটি পাতলা মাইক্রোফাইবার কাপড় রাখতে পারেন। ল্যাপটপের সঙ্গে পাওয়া পাতলা সাদা ফোম শিট থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।তবে কোনও মোটা কাপড় বা ভারী কীবোর্ড কভার ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ তাতেও বন্ধ অবস্থায় স্ক্রিনের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।প্রয়োজনে ডিসপ্লেতে ভালো মানের অ্যান্টি-গ্লেয়ার স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে সরাসরি স্ক্রিনের পৃষ্ঠে ঘর্ষণের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব।
কীবোর্ড পরিষ্কার রাখাও জরুরি
স্ক্রিন পরিষ্কার করার পাশাপাশি কীবোর্ডও নিয়মিত পরিষ্কার করুন। কারণ কীবোর্ডে জমে থাকা ধুলো, তেল ও ঘামের আস্তরণই পরে স্ক্রিনে ছাপ ফেলতে পারে।বিশেষ করে নিয়মিত টাইপ করলে হাতের ঘাম ও তেল বোতামে জমে যায়। তাই মাঝেমধ্যে কীবোর্ড মুছে পরিষ্কার রাখলে স্ক্রিনে দাগ পড়ার সম্ভাবনাও কমানো যায়।
ল্যাপটপ খুললেই স্ক্রিনে স্পেসবার বা কীবোর্ডের বোতামের ছাপ দেখা যাচ্ছে? অনেক ক্ষেত্রে এটি শুধু ধুলোর দাগ নয়। কীবোর্ড ও ডিসপ্লের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ, ঘর্ষণ, তেল-ময়লা এবং ব্যাগে ভারী জিনিসের চাপ থেকেও স্ক্রিনে স্থায়ী দাগ বা ক্ষতি হতে পারে। কীভাবে নিরাপদে স্ক্রিন পরিষ্কার করবেন এবং ভবিষ্যতে এই সমস্যা এড়াবেন, জেনে নিন সহজ কিছু উপায়।













