‘যে কোনও দরকারে ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকব’— স্টুডেন্টস উইকের সূচনায় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

‘যে কোনও দরকারে ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকব’— স্টুডেন্টস উইকের সূচনায় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বছরের প্রথম দিনেই ছাত্রসমাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্টুডেন্টস ডে ও স্টুডেন্টস উইকের সূচনায় সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামিদিনেও যে কোনও প্রয়োজনে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকবে সরকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সাফল্যের ছবিও।

স্টুডেন্টস ডে ও স্টুডেন্টস উইকের তাৎপর্য

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি ‘স্টুডেন্টস ডে’ হিসেবে এবং বছরের প্রথম সাত দিন ‘স্টুডেন্টস উইক’ হিসেবে পালন করছে রাজ্য সরকার। তাঁর কথায়, বছরের প্রথম সপ্তাহ ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশেই উৎসর্গ করা হয়েছে, কারণ দেশগঠনে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। ছাত্রজীবনকে জীবনের অন্যতম সেরা সময় বলে উল্লেখ করে তিনি চান, পড়ুয়ারা যেন এই সময়টা আনন্দ ও স্বপ্ন নিয়ে উপভোগ করতে পারে।

‘আগেও ভাবেনি, এখনও ভাবছে বাংলা’— মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের মতো করে বাংলার ছাত্রছাত্রীদের কথা আগে কেউ কখনও ভাবেনি।” পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতেও যে কোনও প্রয়োজনে তিনি নিজে ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকবেন। এই বক্তব্যে সরকারের পড়ুয়াকেন্দ্রিক নীতির প্রতিফলন স্পষ্ট বলে মনে করছেন শিক্ষা মহল।

স্কুলছুট শূন্য, শিক্ষায় বড় সাফল্যের দাবি

শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সাল থেকে রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে কোনও স্কুলছুট নেই। এটি রাজ্য সরকারের একটি বড় সাফল্য বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষায় সামগ্রিক উন্নয়নের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

কন্যাশ্রী থেকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড— প্রকল্পের লম্বা তালিকা

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, ঐক্যশ্রী ও সংখ্যালঘু স্কলারশিপ, শিক্ষাশ্রী, মেধাশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিন্স, তরুণের স্বপ্ন, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড-সহ একাধিক প্রকল্প চালু রয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে বই, ড্রেস, জুতো ও ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এই সব মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় ২৭.৪৬ কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রী সুবিধা পেয়েছে, যার জন্য রাজ্য সরকার খরচ করেছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা।

পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ

শুধু সুযোগ-সুবিধাই নয়, শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিপুল বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, এই ক্ষেত্রে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। ২০১১ সালের পর থেকে হাজারেরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং ও বি-এড কলেজ গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ৭ হাজারেরও বেশি নতুন স্কুল ও ২ লক্ষের বেশি অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ।

নতুন পাঠক্রমে এআই, ডেটা সায়েন্স

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্সের মতো আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্নাতক স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে চালু হয়েছে কেন্দ্রীয় অ্যাডমিশন পোর্টালও।

স্টুডেন্টস ডে ও স্টুডেন্টস উইকের সূচনায় রাজ্যের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি এখন সারা দেশের কাছে মডেল বলে দাবি করে পড়ুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন তিনি।

Leave a comment