Marigold Gardening Tips: শীতের গাঁদা ফুলে ভরে উঠুক ছাদ-বাগান! টবের মাটিতে মেশান এই ৩ উপাদানের মধ্যে যে কোনও একটি, মানুন সঠিক নিয়ম

গাঁদা গাছে পাতা হচ্ছে, কিন্তু ফুল ফুটছে না? কলার খোসা, সর্ষের খোল ও পচানো গোবর সার ব্যবহারের নিয়ম জানুন। শীতের গাঁদা গাছের পরিচর্যার সহজ টিপস।

শীত এলেই বাগান বা বারান্দায় হলুদ-কমলা গাঁদা ফুলের বাহার দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ, গাছের পাতা আর ডালপালা বাড়লেও ফুলের দেখা মেলে না। কখনও আবার কুঁড়ি ধরার পরেই তা ঝরে যায়। এই সমস্যা এড়াতে শুধু সার দিলেই হবে না, গাছের পরিচর্যাতেও নজর দিতে হবে। বাগান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, কলার খোসা, সর্ষের খোল কিংবা ভালোভাবে পচানো গোবর সার—এই তিন উপাদানের মধ্যে উপযুক্ত একটি ব্যবহার করতে পারেন। কীভাবে ব্যবহার করবেন, জেনে নিন।

Marigold Gardening Tips: শীতের গাঁদা ফুলে ভরে উঠুক ছাদ-বাগান! টবের মাটিতে মেশান এই ৩ উপাদানের মধ্যে যে কোনও একটি, মানুন সঠিক নিয়ম

গাঁদা গাছে ফুল না আসার কারণ কী?

গাঁদা গাছ সতেজ দেখালেও ফুল না ফোটার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পাওয়া, অতিরিক্ত জল দেওয়া, মাটিতে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া কিংবা বেশি নাইট্রোজেনযুক্ত সার ব্যবহারের ফলে ফুল কম হতে পারে।সাধারণত গাঁদা গাছের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা ভালো রোদ প্রয়োজন। পাশাপাশি টবের নীচে জল বেরিয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকা জরুরি। তাই সার দেওয়ার আগে গাছের অবস্থান, মাটির গুণমান এবং জল দেওয়ার নিয়ম ঠিক আছে কি না, তা দেখে নিন।

কলার খোসা দিয়ে তৈরি করুন প্রাকৃতিক সার

কলা খাওয়ার পর খোসা ফেলে না দিয়ে বাগানের কাজে লাগাতে পারেন। কলার খোসায় পটাশিয়াম-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করলে তা মাটিতে জৈব উপাদান যোগ করতে পারে।

কীভাবে তৈরি করবেন?

- প্রথমে ২-৩টি কলার খোসা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।

- টুকরোগুলি ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিন।

- সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন।

- এই গুঁড়ো অল্প পরিমাণে টবের মাটির উপরের স্তরের সঙ্গে মিশিয়ে দিন।

- শেষে সামান্য জল দিন।

তবে ভেজা কলার খোসা বেশি পরিমাণে সরাসরি টবের মাটিতে দেবেন না। এতে দুর্গন্ধ, পচন এবং পোকামাকড়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সর্ষের খোল ব্যবহার করতে পারেন

সর্ষের তেল তৈরির পর যে খোল পাওয়া যায়, তা জৈব সার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে নাইট্রোজেন-সহ কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে, যা গাছের পাতা ও নতুন ডাল গজাতে সাহায্য করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

সর্ষের খোল অল্প পরিমাণে জলে ভিজিয়ে রেখে তৈরি দ্রবণ ব্যবহার করা যায়। তবে সর্ষের খোলের ধরন এবং প্রস্তুতপ্রণালীর উপর নির্ভর করে ব্যবহারের মাত্রা বদলে যায়। তাই প্যাকেটের নির্দেশ মেনে দ্রবণ তৈরি করে প্রয়োজনমতো পাতলা করে গাছের গোড়ার মাটিতে দিন।খেয়াল রাখবেন, অতিরিক্ত বা ঘন দ্রবণ ব্যবহার করলে গাছের শিকড়ের ক্ষতি হতে পারে। গাছে যদি আগে থেকেই প্রচুর পাতা হয় অথচ ফুল কম আসে, তাহলে বেশি সর্ষের খোল দেওয়া ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ফুলের বদলে পাতার বৃদ্ধি বাড়াতে পারে।

Marigold Gardening Tips: শীতের গাঁদা ফুলে ভরে উঠুক ছাদ-বাগান! টবের মাটিতে মেশান এই ৩ উপাদানের মধ্যে যে কোনও একটি, মানুন সঠিক নিয়ম

ভালোভাবে পচানো গোবর সার দিন

গাঁদা গাছের মাটির উর্বরতা বাড়াতে ভালোভাবে পচানো গোবর সার ব্যবহার করতে পারেন। এতে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ে এবং গাছ ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

টবের আকার অনুযায়ী অল্প পরিমাণে পচানো গোবর সার মাটির উপরের স্তরের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এরপর প্রয়োজনমতো জল দিন। তবে একেবারেই কাঁচা গোবর ব্যবহার করবেন না। কাঁচা গোবরে থাকা অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া, তাপ এবং আধপচা জৈব পদার্থ গাছের শিকড়ের ক্ষতি করতে পারে।একইভাবে বেশি পরিমাণে গোবর সার দিলে মাটির গঠন ও জল নিকাশির সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই মাটি আগে থেকেই উর্বর হলে বারবার সার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শুধু সার নয়, এই পরিচর্যাগুলিও জরুরি

গাঁদা গাছে ভালো ফুল পেতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার।

- পর্যাপ্ত রোদ: প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলো পায়, এমন জায়গায় টব রাখুন।

- পরিমিত জল: মাটির উপরের স্তর শুকনো মনে হলে জল দিন। অতিরিক্ত জল জমতে দেবেন না।

- ভালো জল নিকাশি: টবের নীচে পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকা প্রয়োজন।

- সারের ভারসাম্য: প্রয়োজনের বেশি নাইট্রোজেনযুক্ত সার ব্যবহার করবেন না।

- শুকনো ফুল সরিয়ে দিন: গাছের শুকিয়ে যাওয়া ফুল ও পাতা নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।

Marigold Gardening Tips: শীতের গাঁদা ফুলে ভরে উঠুক ছাদ-বাগান! টবের মাটিতে মেশান এই ৩ উপাদানের মধ্যে যে কোনও একটি, মানুন সঠিক নিয়ম

অক্টোবর থেকেই গাঁদা ফুলের চারা বসানোর উপযুক্ত সময়। কিন্তু অনেক সময় গাছ সতেজ থাকলেও ফুল আসে না, আবার কুঁড়ি ধরলেও ঝরে যায়। বাগান বিশেষজ্ঞ চন্দ্রশেখর মিশ্রের পরামর্শ অনুযায়ী, কলার খোসা, সর্ষের খোল এবং ভালোভাবে পচানো গোবর সার গাঁদা গাছের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করতে পারে। তবে সঠিক পরিমাণে সার দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত রোদ ও জল নিকাশির ব্যবস্থাও জরুরি।

Leave a comment