মাছ-মাংসের নানা পদ থাকলেও মায়ের হাতের গরম ফেনাভাতের স্বাদ যেন আলাদা। শরীর খারাপের সময় হোক কিংবা তাড়াহুড়োর সকালে, নরম গলা ভাত অনেকের কাছেই আরামদায়ক খাবার। কিন্তু বাড়িতে সেই একই রকম ফেনাভাত বানাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন অনেকেই। কখনও অতিরিক্ত জল, কখনও শক্ত চাল—সব মিলিয়ে স্বাদটাই নষ্ট। তাই জেনে নিন চাল, জল এবং রান্নার সময়ের সঠিক হিসাব।
ফেনাভাত আসলে কী?
ফেনাভাতকে অনেকে গলাভাত, ফ্যানাভাত বা ভাতে ভাত নামেও চেনেন। সাধারণ ভাতের তুলনায় এতে জলের পরিমাণ বেশি থাকে এবং চাল বেশ নরম হয়ে রান্না হয়।বাঙালি বাড়িতে অনেক সময় গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে এই ধরনের ভাত রান্না করা হয়। চাল ও ফ্যান একসঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি হয় নরম, খানিকটা থকথকে একটি খাবার।
১ কাপ চালে কতটা জল দেবেন?
ফেনাভাত তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল চাল ও জলের অনুপাত।
সাধারণভাবে—
১ কাপ চাল : ৪ কাপ জল
অর্থাৎ, ১ কাপ চাল নিলে ৪ কাপ জল দিতে পারেন। চাল যদি বেশ পুরনো হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী জলের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ৪ কাপ করা যেতে পারে।কারণ ফেনাভাত সাধারণ ভাতের মতো ঝরঝরে নয়। বরং চালকে নরম করে ফ্যানের সঙ্গে মিশিয়ে একটু গলা ও থকথকে করে রান্না করাই এর বৈশিষ্ট্য।
প্রেসার কুকারে ক’টি সিটি?
প্রেসার কুকারে ফেনাভাত বানালে সিটির সংখ্যার দিকেও নজর রাখতে হবে।প্রথমে চাল ও জল দিয়ে কুকারের ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে হাই ফ্লেমে ৩ থেকে ৪টি সিটি দিতে পারেন। শেষ সিটি হয়ে গেলে গ্যাস বন্ধ করে দিন।এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কুকারের চাপ নিজে থেকে সম্পূর্ণ বের হতে দিন। দ্রুত ঢাকনা খোলার জন্য জোর করে প্রেসার বের করার চেষ্টা না করাই ভালো।চাল কতটা পুরনো, কুকারের ধরন এবং আঁচের তারতম্যের কারণে রান্নার সময় কিছুটা বদলাতে পারে। তাই প্রথমবার বানালে নিজের কুকার অনুযায়ী সামান্য সামঞ্জস্য করে নিন।
স্বাদ বাড়াতে কী দেবেন?
কুকার থেকে ফেনাভাত নামানোর পর গরম অবস্থায় চাইলে ১ চামচ ঘি বা মাখন মিশিয়ে নিতে পারেন। সঙ্গে স্বাদ অনুযায়ী নুন দিন।
আরও পুষ্টিকর ও পেটভরা করতে চাইলে চালের সঙ্গে একসঙ্গে—
আলু
কুচি করা পেঁপে
ডাল
দিয়ে রান্না করা যায়। এতে আলাদা করে রান্নার ঝামেলাও কমে।
হাঁড়িতে ফেনাভাত বানানোর সহজ পদ্ধতি
প্রেসার কুকার না থাকলেও হাঁড়িতে সহজেই ফেনাভাত তৈরি করা যায়।প্রথমে পরিমাণমতো জল ফুটিয়ে নিন। জল ফুটে উঠলে তাতে ধোয়া চাল দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে চাল সেদ্ধ হতে দিন।চাল নরম হয়ে এলে হাতা দিয়ে হালকা করে নাড়তে থাকুন। এতে চালের দানা কিছুটা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে মিশে যাবে। ধীরে ধীরে ভাত ও ফ্যান মিশে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত থকথকে ভাব তৈরি হবে।চাল জলে দেওয়ার পর আনুমানিক ৩৫ মিনিটের মধ্যে নামিয়ে নেওয়া যায়। তবে চালের ধরন ও আঁচ অনুযায়ী সময় কমবেশি হতে পারে।
মায়ের হাতের স্বাদ ফেরাতে ছোট্ট টিপস
ফেনাভাতের আসল মজা তার নরম ও গলা টেক্সচারে। তাই জলের পরিমাণ কমিয়ে সাধারণ ঝরঝরে ভাতের মতো রান্না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।আবার অতিরিক্ত সিটি দিলে চাল একেবারে বেশি গলে যেতে পারে। তাই প্রথমবার ১:৪ অনুপাত এবং ৩-৪টি সিটি দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। রান্না শেষে ঘি বা মাখনের সামান্য ছোঁয়ায় স্বাদ আরও বাড়তে পারে।
বাঙালির কাছে ফেনাভাত বা গলাভাত শুধু খাবার নয়, ছোটবেলার স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে। কিন্তু বাড়িতে বানাতে গিয়ে অনেক সময় ভাত বেশি গলে যায়, আবার কখনও শক্ত থেকে যায়। ঠিকঠাক ফেনাভাত বানাতে ১ কাপ চালের সঙ্গে ৪ কাপ জল এবং প্রেসার কুকারে ৩-৪টি সিটি দেওয়ার নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন।













