Meat Side Effects: রোজ মাটন-চিকেন খাচ্ছেন? হৃদরোগ থেকে ক্যানসার—অতিরিক্ত আমিষে বাড়ছে নীরব বিপদ

Meat Side Effects: রোজ মাটন-চিকেন খাচ্ছেন? হৃদরোগ থেকে ক্যানসার—অতিরিক্ত আমিষে বাড়ছে নীরব বিপদ

মাংস ছাড়া অনেকেরই ভাত-রুটি গলা দিয়ে নামে না। মাটন, চিকেন কিংবা প্রক্রিয়াজাত মাংস প্রায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকছে। কিন্তু স্বাদের টানে প্রতিদিন অতিরিক্ত আমিষ গ্রহণ অজান্তেই শরীরে তৈরি করছে একাধিক গুরুতর অসুখের ঝুঁকি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে, সীমার বাইরে মাংস খাওয়া দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতীও হতে পারে।

প্রোটিনের ভাণ্ডার, কিন্তু সীমা মানা জরুরি

মাংসে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন বি১২—যা শরীরের পেশি গঠন, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও স্নায়ুর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিমিত আমিষ গ্রহণ উপকারী বলেই মনে করা হয়।তবে সমস্যা শুরু হয় যখন এই উপকারী খাদ্যই হয়ে ওঠে প্রতিদিনের অতিরিক্ত অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি লাল মাংস খাওয়া শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

হৃদরোগ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের বাড়তি আশঙ্কা

অতিরিক্ত লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি হতে পারে।দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবণতা চললে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সম্ভাবনা

বহু আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সরাসরি যোগ রয়েছে।খুব বেশি তাপে মাংস রান্না করলে হেটারোসাইক্লিক অ্যামিন ও পলিসাইক্লিক অ্যারোম্যাটিক হাইড্রোকার্বনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হতে পারে, যা কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

ডায়াবেটিস ও হজমজনিত সমস্যা

প্রতিদিন অতিরিক্ত আমিষ খাওয়া টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি কোলন পলিপ, ডাইভার্টিকুলার ডিজিজ ও হজমের নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে।ফাইবারের অভাব এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রদাহের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

খাদ্যবিষক্রিয়া ও সংক্রমণের আশঙ্কা

কম সেদ্ধ বা দূষিত মাংস খেলে শরীরে প্রবেশ করতে পারে সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। এর ফলে বমি, ডায়রিয়া, পেটে তীব্র ব্যথা ও জ্বর হতে পারে।শিশু, বয়স্ক ও যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ গুরুতর রূপ নিতে পারে। তাই সঠিকভাবে রান্না ও সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

তাহলে কী করবেন?

সব ধরনের মাংসই যে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর, তা নয়। মূল বিষয় হল পরিমিতি ও সঠিক রান্নার পদ্ধতি। সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি লাল মাংস না খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়ানো এবং সবজি-ফল-ডালসহ সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই শ্রেয়।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখলে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রোটিনের জন্য মাংস খাওয়া উপকারী হলেও অতিরিক্ত লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস শরীরে ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ, কোলোরেক্টাল ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও খাদ্যবিষক্রিয়ার মতো জটিল অসুখ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন আমিষভোজন দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি করতে পারে।

Leave a comment