এক সময় যেসব রোগ বার্ধক্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল, ২০২৫ সালে সেগুলিই তরুণ ও এমনকি শিশুদেরও গ্রাস করেছে। বদলে যাওয়া জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা মারাত্মক রোগের পথ প্রশস্ত করেছে। ২০২৫ সালে ভারতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটিয়েছে এমন পাঁচটি রোগ সম্পর্কে জানুন এবং আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিন।
হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক: বয়সের গণ্ডি ভেঙে মৃত্যু
২০২৫ সালে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বছরে হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল—হার্ট অ্যাটাক আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ফ্যাটি লিভার: নীরব ঘাতক
ফ্যাটি লিভার রোগকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু চিকিৎসা না হলে এটি লিভার সিরোসিস ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, ভারতের প্রায় ৮৪% আইটি কর্মী এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন—মূলত বসে কাজ করা ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে।

বার্ড ফ্লু: সংক্রমণ থেকে প্রাণহানি
২০২৫ সালে বার্ড ফ্লু নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটক-সহ একাধিক রাজ্যে পাখি থেকে মানুষের সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাস প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, যার জেরে জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিতে হয় প্রশাসনকে।
হাম (Measles): প্রতিরোধযোগ্য হয়েও বিপজ্জনক
বিশ্বজুড়ে হামজনিত মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যাটি এখনও ভারতে। ২০২৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ভারতকে বিশেষ নজরদারি তালিকায় রাখে। টিকাকরণে ঘাটতির কারণেই এই অত্যন্ত সংক্রামক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য রোগটি এখনও জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি হয়ে রয়েছে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা: সাধারণ ভাইরাস, মারাত্মক পরিণতি
এই বছরে ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘদিনের কাশি, শরীর ব্যথা ও ভাইরাল জ্বর অনেকের ক্ষেত্রে গুরুতর রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান করলে ইনফ্লুয়েঞ্জার তীব্রতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
২০২৫ সাল ভারতে একাধিক মারাত্মক রোগের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। হৃদরোগ থেকে শুরু করে সংক্রামক ভাইরাস—অনেক ক্ষেত্রেই অল্প বয়সিদের মধ্যেও মৃত্যুর হার বেড়েছে। তবে ভয় নয়, সময়মতো সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলেই এই রোগগুলির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।













