বারবার নদীভাঙনের ধাক্কায় বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌসুনি দ্বীপ। অমাবস্যার ভরা কোটালের জেরে বটতলা এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার নদীবাঁধ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ না হলে বর্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধাক্কা খাবে দ্বীপের পর্যটন অর্থনীতিও।
কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক ভাঙন, আতঙ্কে দ্বীপবাসী
মৌসুনি দ্বীপে নদীভাঙনের ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি সল্টঘেরি এলাকায় ক্ষয়ের পর এবার বালিয়াড়া সংলগ্ন ১৪ নম্বর সোয়াল এলাকার বটতলা নদীবাঁধের বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক স্থানে ভাঙনের ঘটনা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের মতে, প্রতি বর্ষার আগেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই।
দীর্ঘদিন দুর্বল ছিল বাঁধ, অভিযোগ স্থানীয়দের
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের। অমাবস্যার ভরা কোটালের প্রবল জলোচ্ছ্বাসে শেষ পর্যন্ত বাঁধের বড় অংশ ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। ফলে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্রামে জল ঢোকার আশঙ্কা, বিপাকে পর্যটন শিল্পও
মৌসুনি দ্বীপের অর্থনীতির অন্যতম ভরসা পর্যটন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্রতটের টানে সারা বছরই বহু পর্যটক এখানে আসেন। কিন্তু লাগাতার নদীভাঙন শুধু বসতি নয়, পর্যটন পরিকাঠামোর উপরও বড় প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে নদীর জল গ্রামে ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে পর্যটন ব্যবসায়।
নতুন সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আর্জি
দ্বীপবাসীদের দাবি, অস্থায়ী মেরামত নয়, এবার প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। একদিকে সমুদ্রবাঁধ এবং অন্যদিকে নদীবাঁধের উপর নির্ভর করেই টিকে রয়েছে গোটা দ্বীপ। তাই নতুন সরকারের কাছে শক্তিশালী ও স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, বাঁধ নিরাপদ থাকলেই নিরাপদ থাকবে বসতি, কৃষিজমি এবং পর্যটন শিল্প।
কাজ শুরু হলেও স্থায়ী সমাধান চান বাসিন্দারা
প্রশাসনের তরফে প্রাথমিক মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধাপে ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের আশ্বাসও মিলেছে। তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, বর্ষা একেবারে দোরগোড়ায়। শুধু অস্থায়ী সংস্কার করলে আগামী জোয়ার বা ভারী বৃষ্টিতে ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই টেকসই ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদীবাঁধ নির্মাণের উপরই জোর দিচ্ছেন তাঁরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মৌসুনি দ্বীপে ফের নদীভাঙনের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অমাবস্যার ভরা কোটালে বটতলা এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার নদীবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বর্ষার আগে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। গ্রামকে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা এবং পর্যটন শিল্প টিকিয়ে রাখতে দ্রুত স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণের দাবি উঠেছে।










