Murshidabad News: ১৯১তম জন্মতিথিতে ভক্তসমাগমে ভাসল কান্দি দোহালিয়া আশ্রম, মঙ্গল আরতিতে সূচনা পবিত্র দিনের

মুর্শিদাবাদের কান্দি দোহালিয়া রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের ১৯১তম জন্মতিথি পালিত হল ধর্মীয় মর্যাদায়। মঙ্গল আরতি, হোম, ভজন ও প্রসাদ বিতরণে হাজির হাজার হাজার ভক্ত।

ফাল্গুনের পবিত্র তিথিতে মুর্শিদাবাদের কান্দি যেন এক আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হল। ভোরের আলো ফোটার আগেই আশ্রম প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। মঙ্গল আরতি ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ১৯১তম জন্মতিথি উদযাপন।

মঙ্গল আরতিতে দিন সূচনা

ভোরবেলায় শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে মঙ্গল আরতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বৈদিক মন্ত্রপাঠ, পূজা, হোমযজ্ঞ ও স্তবগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা আশ্রম। শ্রীরামকৃষ্ণ বন্দনা ও ভজন পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা ভক্তিভাব নিবেদন করেন।

হাজারো ভক্তের সমাগম

সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আশ্রম চত্বরে বাড়তে থাকে ভক্তসমাগম। মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও বহু মানুষ উপস্থিত হন। প্রসাদ বিতরণের সুব্যবস্থা করা হয়, যাতে প্রত্যেক ভক্ত অংশ নিতে পারেন এই পুণ্যতিথির আনন্দে।

কামারপুকুরেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান

শুধু কান্দিই নয়, হুগলির কামারপুকুর—যা শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মস্থান—সেখানেও দিনভর নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শাখা কেন্দ্রেও পালিত হয় জন্মতিথি।

গদাধর থেকে পরমহংস

১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় ও চন্দ্রমণি দেবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়, যিনি পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণ পরমহংস নামে পরিচিত হন। গ্রাম্য সরল ভাষায় গভীর দর্শনের বাণী প্রচার করতেন তিনি। তাঁর সেই বাণী বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেন শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ।

দিব্য স্বপ্ন ও জন্মকথা

জনশ্রুতি অনুযায়ী, রামকৃষ্ণদেবের জন্মের আগে তাঁর পিতা-মাতা এক দিব্য স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই বিশ্বাস থেকেই সন্তানের নাম রাখা হয় গদাধর। ফাল্গুন মাসের দ্বিতীয় তিথিতে তাঁর জন্মোৎসব পালিত হয়—এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।

রামকৃষ্ণ পরমহংস-এর ১৯১তম জন্মতিথি উপলক্ষে কান্দি দোহালিয়া রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, হোম, ভজন ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে আধ্যাত্মিক আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে আশ্রম চত্বর।

Leave a comment