একসময় মোমবাতি মানেই ছিল বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরে আলো জ্বালানোর উপকরণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের পছন্দ। এখন মোমবাতি শুধু আলোর উৎস নয়, ঘর সাজানোর অন্যতম আকর্ষণীয় সামগ্রীও। বিশেষ করে সুগন্ধি ও বিভিন্ন খাবারের আদলে তৈরি ডিজাইনার ক্যান্ডেলের প্রতি বাড়ছে আগ্রহ। এই পরিবর্তিত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই অভিনব মোমের শিল্পকর্ম তৈরি করছেন নদিয়ার মাজদিয়ার পাপিয়া কর। ফুল থেকে ফল, সবজি থেকে মিষ্টি-বিস্কুট—তাঁর তৈরি মোমবাতির বৈচিত্র্য দেখলে অবাক হতে হয়। গৃহবধূ হয়েও নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেখাচ্ছেন ঘরে বসে আয়ের নতুন সম্ভাবনা।
সাধারণ মোমবাতি নয়, এবার নজর কাড়ছে ডিজাইনার ক্যান্ডেল
দীপাবলি কিংবা অন্য কোনও উৎসবে ঘর সাজাতে মোমবাতির ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমানে বাজারে প্রচলিত সাদা বা রঙিন সাধারণ মোমবাতির পাশাপাশি জনপ্রিয় হচ্ছে নানা আকৃতির সুগন্ধি ক্যান্ডেল।এই ট্রেন্ডকে কাজে লাগিয়েছেন নদিয়ার মাজদিয়ার বাসিন্দা পাপিয়া কর। তিনি এমন সব মোমবাতি তৈরি করছেন, যা দেখতে অনেকটা আসল ফুল, ফল কিংবা খাবারের মতো। শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রতিটি মোমবাতিতে রয়েছে মনোরম সুগন্ধের ছোঁয়া। ফলে ঘর সাজানোর পাশাপাশি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবেও এগুলি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
গোলাপ, পদ্ম থেকে মিষ্টি-বিস্কুট, কী নেই তাঁর সংগ্রহে!
পাপিয়া করের তৈরি ডিজাইনার মোমবাতির বৈচিত্র্য সত্যিই নজরকাড়া। গোলাপ, পদ্মের মতো বিভিন্ন ফুলের পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের ফল ও সবজির আকৃতি।এমনকী মিষ্টি এবং বিস্কুটের আদলেও তৈরি করছেন মোমের শিল্পকর্ম। বিভিন্ন মূর্তির নকশাও রয়েছে তাঁর সংগ্রহে। প্রতিটি মোমবাতির রং, আকার ও সাজসজ্জায় রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।নিখুঁতভাবে তৈরি হওয়ায় প্রথম দেখায় অনেক সময় বোঝাই কঠিন যে এগুলি আসলে মোম দিয়ে তৈরি। তার সঙ্গে সুগন্ধের মেলবন্ধন এই ক্যান্ডেলগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
কীভাবে তৈরি হয় এই সুগন্ধি ডিজাইনার মোমবাতি?
এই ধরনের মোমবাতি তৈরি করতে শুধু মোম গলিয়ে সলতে বসালেই হয় না। এর জন্য দরকার বিশেষ দক্ষতা, ধৈর্য এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনা।প্রথমে নির্দিষ্ট নকশার ছাঁচে গলানো মোম ঢেলে পছন্দমতো আকৃতি তৈরি করা হয়। এরপর রং এবং সুগন্ধি উপাদান ব্যবহার করে মোমবাতিগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়।প্রতিটি নকশার ক্ষেত্রে আলাদা যত্ন নিতে হয়। ফুলের পাপড়ি থেকে শুরু করে ফলের গঠন কিংবা মিষ্টি-বিস্কুটের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন বিশেষ মনোযোগপাপিয়া করের দাবি, বাজারে প্রচলিত সাধারণ মোমবাতির তুলনায় তাঁর তৈরি ক্যান্ডেলগুলি দীর্ঘক্ষণ জ্বলে।
দীপাবলি থেকে জন্মদিন, উপহার হিসেবেও হতে পারে জনপ্রিয়
ডিজাইনার ক্যান্ডেলের ব্যবহার এখন শুধু দীপাবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাড়ির অন্দরসজ্জা, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা অন্যান্য বিশেষ অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবেও এই ধরনের মোমবাতি ব্যবহার করা যেতে পারে।বিশেষ করে ফুল বা মিষ্টির আদলে তৈরি সুগন্ধি ক্যান্ডেল উপহারের তালিকায় আলাদা আকর্ষণ যোগ করতে পারে। ফলে সৃজনশীল হাতে তৈরি এই পণ্যগুলির মাধ্যমে ছোট উদ্যোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এখনই বাণিজ্যিক বিক্রি শুরু হয়নি, কীভাবে যোগাযোগ করবেন?
পাপিয়া করের এই অভিনব উদ্যোগ ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে এখনও তাঁর তৈরি মোমবাতিগুলি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা শুরু হয়নি।আগ্রহীরা তাঁর নিজস্ব ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে এই ডিজাইনার সুগন্ধি মোমবাতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।ঘরে বসে নিজের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে নতুন কিছু তৈরি করা যায়, পাপিয়া করের এই উদ্যোগ তারই সুন্দর উদাহরণ।
সাধারণ মোমবাতির দিন এখন অনেকটাই বদলেছে। ঘর সাজানো থেকে শুরু করে উপহার দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সুগন্ধি ও নানান নকশার ডিজাইনার ক্যান্ডেল। এই নতুন ধারাকেই কাজে লাগিয়ে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন নদিয়ার মাজদিয়ার গৃহবধূ তথা সমাজকর্মী পাপিয়া কর। তাঁর হাতে তৈরি মোমবাতির মধ্যে রয়েছে গোলাপ, পদ্ম, বিভিন্ন ফল, সবজি, মিষ্টি, বিস্কুট এমনকী নানা মূর্তির আদলও। নিখুঁত নকশা এবং মনমাতানো সুগন্ধের কারণে এই মোমবাতিগুলি সহজেই নজর কাড়ছে। ঘরে বসে সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে কীভাবে স্বনির্ভরতার সম্ভাবনা তৈরি করা যায়, তাঁর উদ্যোগ তারই উদাহরণ।










