শিল্পের প্রকাশের জন্য ক্যানভাসের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। কখনও দেওয়াল, কখনও কাগজ, আবার কখনও মানুষের শরীরও হয়ে উঠতে পারে শিল্পীর সৃষ্টির মাধ্যম। সেই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন নদিয়ার রানাঘাটের তরুণ চিত্রকর গৌরব সরকার। এক সাধারণ গৃহবধূর শরীরে রং-তুলির জাদুতে ফুটিয়ে তুলেছেন মা তারার অপূর্ব রূপ। দেবীর চোখ, ত্রিনয়ন থেকে শুরু করে অলঙ্করণ—প্রতিটি খুঁটিনাটিতে রয়েছে শিল্পীর অসাধারণ দক্ষতার ছাপ। প্রায় ৯ ঘণ্টার নিরলস পরিশ্রমে তৈরি এই বডি আর্ট এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।
কাগজের ক্যানভাস ছেড়ে মানবদেহে মা তারার রূপ
ছবি আঁকার জন্য শিল্পীরা সাধারণত কাগজ, ক্যানভাস কিংবা দেওয়াল ব্যবহার করেন। কিন্তু রানাঘাটের তালপুকুরপাড়ার বাসিন্দা গৌরব সরকার বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ অন্য একটি মাধ্যম। মানুষের শরীরকে ক্যানভাস বানিয়ে সেখানে ফুটিয়ে তুলেছেন তারাপীঠের অধিষ্ঠাত্রী মা তারার রূপ।তাঁর এই অভিনব শিল্পকর্মে মডেল হয়েছেন প্রতিবেশী কেয়া ঘোষ। তিনি কোনও পেশাদার মডেল নন, বরং একজন সাধারণ গৃহবধূ। তাঁর শরীরেই নিপুণ তুলির টানে দেবীর রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন গৌরব। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শিল্পপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
৯ ঘণ্টার পরিশ্রম, ব্যবহার করেছেন অ্যাক্রিলিক রং
এই বডি পেইন্টিং তৈরি করা মোটেও সহজ ছিল না। দেবীর মুখের গড়ন, চোখ, নাক, ত্রিনয়ন এবং বিভিন্ন অলঙ্করণের প্রতিটি অংশ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে শিল্পীকে।গৌরবের কথায়, এই কাজের জন্য ব্যবহার করেছেন অ্যাক্রিলিক রং। একটানা প্রায় আট থেকে ন'ঘণ্টা ধরে চলেছে রং ও তুলির কাজ। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থেকে শিল্পীকে সহযোগিতা করেছেন কেয়া ঘোষ।এই পুরো কাজে গৌরবের ভাই এবং পরিবারের সদস্যরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত সহযোগিতাতেই সম্পূর্ণ হয়েছে ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম।
এর আগেও বড়মা ও শ্যামাসুন্দরী মায়ের রূপ ফুটিয়েছেন
বডি পেইন্টিংয়ের জগতে গৌরব একেবারে নতুন নন। এর আগেও তিনি মানবদেহকে ক্যানভাস বানিয়ে নৈহাটির জাগ্রত বড়মা এবং কলকাতার বিখ্যাত শ্যামাসুন্দরী মায়ের রূপ ফুটিয়ে তুলেছিলেন।পৌরাণিক চরিত্র ও দেবদেবীর রূপকে রং-তুলির মাধ্যমে জীবন্ত করে তোলার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিজেকে শুধুমাত্র মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে চাননা গৌরব। তাঁর মতে, তিনি একজন চিত্রকর। মানবদেহে রঙের মাধ্যমে পৌরাণিক আবহ তৈরি করাই তাঁর শিল্পচর্চার অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা তরুণ শিল্পীর লড়াই
গৌরবের জীবনযাত্রাও বেশ সাধারণ। তাঁর বাবা স্থানীয় বাজারে আনাজের ব্যবসা করেন। বর্তমানে গৌরব নিজেও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা।পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিল্পচর্চা থেকে কখনও নিজেকে সরিয়ে রাখেননি তিনি। পরবর্তীকালে রানাঘাটের বিশিষ্ট শিল্পী সঞ্জু কুণ্ডুর সান্নিধ্যে এসে নিজের আঁকার দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তোলেন। ধীরে ধীরে রং এবং তুলির ব্যবহারে তৈরি হয়েছে তাঁর নিজস্ব শিল্পীসত্তা।
ভবিষ্যতে বডি আর্ট নিয়ে আরও বড় পরিকল্পনা
শুধু শখের বশে নয়, বডি আর্ট এবং মাইথোলজিক্যাল পেইন্টিংকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান গৌরব। ভবিষ্যতে এই ধরনের শিল্পকর্ম নিয়ে আরও নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।একজন সাধারণ গৃহবধূকে মডেল করে দেবী তারার রূপ ফুটিয়ে তোলার এই প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শিল্পীর নিষ্ঠা, কল্পনাশক্তি এবং দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের ফলেই তৈরি হয়েছে এমন এক অভিনব শিল্পকীর্তি।
কাগজ কিংবা কাপড়ের ক্যানভাস নয়, এবার মানুষের শরীরকেই ছবি আঁকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিলেন নদিয়ার রানাঘাটের তরুণ শিল্পী গৌরব সরকার। প্রতিবেশী সাধারণ গৃহবধূ কেয়া ঘোষকে মডেল করে তাঁর শরীরে ফুটিয়ে তুলেছেন তারাপীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা তারার রূপ। অ্যাক্রিলিক রং ও তুলির নিপুণ ব্যবহারে এই অসাধারণ বডি পেইন্টিং তৈরি করতে শিল্পীর সময় লেগেছে প্রায় ৮-৯ ঘণ্টা। অভিনব এই শিল্পকর্ম ইতিমধ্যেই স্থানীয় মহল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কেড়েছে।











