নেতানিয়াহুর দাবি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নেই

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতাপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই এবং দেশটি বিশ্বকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইসরায়েল ইরানের হুমকি মোকাবিলা করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা পরমাণু অস্ত্র বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তিনি বলেন, ইরানের কাছে বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই। তাঁর দাবি, ইরান বিশ্বকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছে, তবে এতে তারা সফল হবে না।

নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইসরায়েল ইরানের হুমকির মোকাবিলা করছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েল ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইসরায়েল ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রগুলিতে অতিরিক্ত হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করবে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ইসরায়েলের তিনটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, ইরানের পরমাণু হুমকি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি বন্ধ করা। তৃতীয়ত, ইরানের জনগণের জন্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে তারা নিজেদের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

নেতানিয়াহু বলেন, কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল ইরানকে সতর্ক করে আসছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শুধু আঞ্চলিক নয়, দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করার সক্ষমতা রাখে। এটি বন্ধ না করা হলে তা কেবল শুরু মাত্র হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নেতানিয়াহুর দাবি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নেই

তিনি আরও বলেন, ইরান গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মাধ্যমে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছে। তবে এই প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি জানান। ইসরায়েল তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে যাতে হরমুজ প্রণালী খোলা থাকে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকত, তাহলে তারা বিশ্বকে ব্ল্যাকমেল করতে পারত।

নেতানিয়াহু বলেন, “আমি জীবিত আছি এবং আপনারা তার সাক্ষী।” তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসঙ্গে ইরানের অস্তিত্বগত হুমকি দূর করতে কাজ করছে। তিনি ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর উল্লেখ করেন, যা ইরানের আয়াতুল্লাহ শাসন থেকে উদ্ভূত হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গত ৪৭ বছর ধরে আয়াতুল্লাহ শাসন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ ও ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এগিয়ে রয়েছে এবং ইরান গুরুতর সংকটে রয়েছে। তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুদে বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে এবং তা ধ্বংস করা হচ্ছে। ইসরায়েল ইরানের একাধিক পরমাণু স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং তাদের নৌবাহিনী সমুদ্রে আটকে আছে। তবে এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং তা সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।

নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছে এবং দৃঢ় সংকল্প ও শক্তির সঙ্গে এই হুমকির মোকাবিলা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পরমাণু অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা কোনো অবস্থাতেই সফল হতে দেওয়া হবে না এবং এই কৌশল সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

 

Leave a comment