BSE Sensex ও Nifty 50—দুই প্রধান সূচকেই বড় পতন। টানা ঊর্ধ্বগতির পর আচমকা এই ধস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কারণ মিলেই এই বড়সড় ধাক্কা এসেছে বাজারে।
সূচকে বড় পতন, সংখ্যাতেই স্পষ্ট ধাক্কা
বৃহস্পতিবার সেনসেক্স ২,৪৯৬.৮৯ পয়েন্ট বা ৩.২৬% পড়ে ৭৪,২০৭.২৪-এ বন্ধ হয়। অন্যদিকে নিফটি ৫০ সূচক ৭৭৫.৬৫ পয়েন্ট কমে ২৩,০০২.১৫-এ নেমে আসে। একদিনেই বিপুল সম্পদ মুছে যাওয়ায় চাপে পড়েন বিনিয়োগকারীরা।
বাজারজুড়ে লাল সঙ্কেত
এনএসই-তে মাত্র ৮৬৪টি শেয়ার বাড়লেও ৩,০৪৮টি শেয়ার পড়েছে। ১৬টি সেক্টরাল সূচকই লাল চিহ্নে বন্ধ হয়েছে। ব্যাঙ্কিং ও ফিনান্স সেক্টরেই সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে।
ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বড় ধাক্কা
HDFC Bank-এর শেয়ারে বড় পতন বাজারকে আরও দুর্বল করে। চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগের জেরে শেয়ার ৮% পর্যন্ত নেমে যায়, যা আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়।
বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, বিশেষ করে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আশঙ্কা বিশ্ব বাজারে চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তেলের দামে আগুন
Brent Crude Oil-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির ভয় বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কর্পোরেট আয়ের উপর।
টাকার পতন ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রভাব
ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকা ৯২.৮৯-এ নেমে যাওয়ায় বাজারে চাপ আরও বেড়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি করায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
ফেডের বার্তায় বাড়ল উদ্বেগ
Federal Reserve সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে। সুদের হার কমার সম্ভাবনা কম থাকায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ব্রডার মার্কেটেও ধস
মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকও প্রায় ২% করে পড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পতন শুধু বড় শেয়ারে সীমাবদ্ধ নয়—সমগ্র বাজারেই চাপ তৈরি হয়েছে।
হঠাৎ বড় ধাক্কা ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সেনসেক্স ও নিফটি ৩ শতাংশের বেশি পড়ে বিপুল ক্ষতি—প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকার বাজারমূল্য উধাও। তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক উত্তেজনা, ব্যাঙ্কিং সেক্টরের ধাক্কা ও ডলারের বিপরীতে টাকার দুর্বলতা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিস্থিতি।













