ভারতীয় শেয়ারবাজার শুক্রবার শক্তিশালী সূচনায় সেনসেক্স ৭৯০ পয়েন্ট ও নিফটি ২০৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি

শুক্রবার ভারতীয় শেয়ারবাজার শক্তিশালী সূচনায় খোলে, যেখানে সেনসেক্স ৭৯০.৫৬ পয়েন্ট এবং নিফটি ২০৮.০৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। আইটি ও মেটাল খাতে ক্রয়চাপ দেখা গেলেও ব্যাংকিং খাতে সীমিত চাপ লক্ষ্য করা যায়।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে ভারতীয় শেয়ারবাজার শক্তিশালী উত্থান দিয়ে শুরু করে। বৈশ্বিক বাজার থেকে মিশ্র সংকেত সত্ত্বেও বাজার ইতিবাচক সূচনায় খোলে এবং প্রাথমিক লেনদেনেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রদর্শন করে। বিএসই সেনসেক্স ৭৯০.৫৬ পয়েন্ট বা ১.০৭% বেড়ে ৭৪,৯৯৭.৮০-এ খোলে। একই সময়ে, এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ২০৮.০৫ পয়েন্ট বা ০.৯০% বৃদ্ধি পেয়ে ২৩,২১০.২০-এ লেনদেন করতে দেখা যায়।

এর আগে গিফট নিফটি প্রায় ৯০ পয়েন্ট বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে বাজারের সবুজ সূচনাকে নির্দেশ করে। প্রাথমিক লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এবং ক্রয়চাপ বাজারকে সমর্থন দেয়।

পূর্ববর্তী সেশনের পতনের পর বাজারে পুনরুদ্ধার

বৃহস্পতিবারের লেনদেন বাজারের জন্য দুর্বল ছিল। কাতারে এনার্জি স্থাপনায় ইরানের হামলার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এই পতন গত ২১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ একদিনের পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়। সেই প্রেক্ষিতে শুক্রবারের উত্থান বাজারে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বাজারে ভারসাম্য

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সংঘাত প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত শেষ হতে পারে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তারা আর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম নয়। তিনি আরও জানান, ইসরায়েল বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কোনো অঞ্চলে সেনা পাঠাচ্ছে না। এসব বক্তব্যের ফলে বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যায়, যার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও প্রতিফলিত হয়।

বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রবণতা

শুক্রবার এশীয় বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। হংকংয়ের বাজার প্রায় ০.৫% হ্রাস পায়, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার প্রায় ১% বৃদ্ধি পায়।

মার্কিন বাজারে বৃহস্পতিবার পতন রেকর্ড করা হয়। এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ০.২৭%, নাসডাক ০.২৮% এবং ডাও জোন্স ০.৪৪% কমে। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের কাতারের গ্যাস সুবিধায় হামলার পর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক রাখে।

মার্কেট ব্রেড্থে বিস্তৃত অংশগ্রহণ

শুক্রবার বাজারের সূচনা সূচকস্তরের পাশাপাশি বিস্তৃত অংশগ্রহণও প্রতিফলিত করে। নিফটি ৫০-এর ৫০টি শেয়ারের মধ্যে ৪৭টি ঊর্ধ্বমুখী ছিল, এবং মাত্র ৩টি শেয়ার নিম্নমুখী ছিল। এটি বাজারে বিস্তৃত ক্রয়চাপের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

আইটি ও মেটাল শেয়ারে ক্রয়চাপ

প্রাথমিক লেনদেনে আইটি ও মেটাল খাতের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। টেক মহিন্দ্রা প্রায় ৩.০৮% বৃদ্ধি পেয়ে শীর্ষ গেইনার ছিল। ইনফোসিস ২.৪৪%, এইচসিএল টেক ২.৩৬%, টাটা স্টিল ২.০৭% এবং এসবিআই প্রায় ১.৯২% বৃদ্ধি পায়। এই শেয়ারগুলির উত্থান বাজারের ঊর্ধ্বগতিতে অবদান রাখে।

ব্যাংকিং খাতে সীমিত চাপ

সামগ্রিক বাজারে উত্থান থাকলেও ব্যাংকিং খাতে কিছুটা দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। এইচডিএফসি ব্যাংক প্রায় ১.৭০% কমে শীর্ষ লুজার হিসেবে চিহ্নিত হয়। প্রাইভেট ব্যাংকিং শেয়ারে সীমিত বিক্রিচাপ বাজারের ঊর্ধ্বগতিকে কিছুটা সীমিত করে, যদিও অন্যান্য খাতের শক্তি তা ভারসাম্য বজায় রাখে।

খাতভিত্তিক প্রবণতা

খাতভিত্তিকভাবে আইটি খাতে সর্বাধিক শক্তি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি মেটাল ও পিএসইউ ব্যাংক শেয়ারেও ক্রয়চাপ ছিল। প্রাইভেট ব্যাংকিং খাতে সীমিত চাপ থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে বাজারের প্রবণতা ইতিবাচক ছিল।

Leave a comment