সুন্দরবন মানেই অনেকের কাছে সজনেখালি, কলস বা বণি। তবে পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে প্রকৃতির একেবারে নিভৃত রূপ দেখতে চাইলে এবার ঘুরে আসতেই পারেন সুন্দরবনের অফবিট চুলকাঠি, ধুলাভাসানি ও ধনচি অঞ্চল থেকে। বর্ষা শুরু হয়ে গেলে নদী উত্তাল হয়ে ওঠে, ফলে এই এলাকায় ভ্রমণ কার্যত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখনই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয়রা।
ভিড় এড়িয়ে নিভৃত সুন্দরবনের টান
প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক সুন্দরবনের পরিচিত এলাকায় ভিড় জমালেও চুলকাঠি, ধুলাভাসানি কিংবা ধনচির মতো অঞ্চল এখনও অনেকটাই অচেনা। এখানকার নির্জন নদীপথ, গভীর ম্যানগ্রোভ বন আর শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেয়।স্থানীয়দের মতে, এই এলাকাগুলিতে পর্যটকদের আনাগোনা তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য অনেক বেশি অনুভব করা যায়।
বর্ষার আগে কেন এখনই যাওয়া জরুরি?
সুন্দরবনে বর্ষাকাল ভ্রমণের জন্য খুব একটা উপযুক্ত নয়। বৃষ্টির সময় নদী উত্তাল হয়ে ওঠে এবং আবহাওয়াও অনিশ্চিত থাকে। ফলে অনেক এলাকায় বোট চলাচলেও সমস্যা দেখা দেয়।বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিকেলের দিকে নদীর ধারে পাখির ঝাঁক, চরে কুমিরের চলাফেরা কিংবা ম্যানগ্রোভ অরণ্যের শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। তাই বর্ষা নামার আগেই এই অফবিট ডেস্টিনেশন ঘুরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
ভাগ্য ভাল থাকলে মিলতে পারে রয়্যাল বেঙ্গলের দেখা
চুলকাঠি, ধুলাভাসানি ও ধনচি অঞ্চল বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন হওয়ায় এখানকার বনভূমি অনেক বেশি ঘন এবং বন্যপ্রাণীতে সমৃদ্ধ। সুন্দরী গাছের বিস্তীর্ণ জঙ্গল, হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও কুমিরের পাশাপাশি ভাগ্য সহায় হলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারেরও দেখা মিলতে পারে।তবে বনদফতরের নিয়ম মেনেই পুরো ভ্রমণ করতে হয়। নিরাপত্তার কারণেই পর্যটকদের নির্দিষ্ট এলাকায় নামার অনুমতি দেওয়া হয়।
বোট সাফারিতেই মিলবে প্রকৃতির আসল আনন্দ
এই অফবিট সুন্দরবনের বড় আকর্ষণ হল বোট সাফারি। বিশাল নদীপথ পেরিয়ে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই রোমাঞ্চকর।এখানে বড় বড় সৈকত থাকলেও সেখানে নামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই এই নিয়ম চালু রয়েছে। ফলে পর্যটকদের বোট থেকেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয়। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ক্যাম্প এলাকায় নামার অনুমতি দেওয়া হয়।
বনদফতরের অনুমতি নিয়েই ভ্রমণ
স্থানীয় বোট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বনদফতরের অনুমতি নিয়ে এই এলাকাগুলিতে ঘোরা যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়।পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এই অফবিট সুন্দরবন আদর্শ গন্তব্য হতে পারে।
সুন্দরবনের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে এবার ঘুরে আসতে পারেন অফবিট চুলকাঠি, ধুলাভাসানি ও ধনচি এলাকায়। বর্ষার আগে এই সময়ে নদী তুলনামূলক শান্ত থাকায় বোট সাফারি, ম্যানগ্রোভ অরণ্য, কুমির, পাখি এবং ভাগ্য ভাল থাকলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারেরও দেখা মিলতে পারে। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই গহীন সুন্দরবন এখন যেন এক অন্যরকম স্বর্গ।













