জীবনসঙ্গীর সম্মতিতেই ‘পরকীয়া’? নতুন প্রজন্মে বাড়ছে ‘ওপেন ম্যারেজ’—সম্পর্কে স্বাধীনতা না ভাঙনের ইঙ্গিত?

ওপেন ম্যারেজ বা মুক্ত বিবাহ কী, কেন জনপ্রিয় হচ্ছে, এর সুবিধা ও ঝুঁকি কী—সব বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

বিবাহ মানেই কি আজীবনের একান্ত সম্পর্ক? নাকি বদলে যাচ্ছে সেই সংজ্ঞা? আধুনিক প্রজন্মের একাংশ বেছে নিচ্ছেন ‘ওপেন ম্যারেজ’—যেখানে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে মানসিক বা শারীরিক সম্পর্কের অনুমতি থাকে। কিন্তু এই স্বাধীনতার মূল্য কতটা?

কী এই ওপেন ম্যারেজ?

‘ওপেন ম্যারেজ’ বা মুক্ত বিবাহ এমন এক সম্পর্ক, যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের স্বাধীনতা পান। এতে শারীরিক বা মানসিক সম্পর্ক—দুইই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এটি গোপন নয়, বরং খোলামেলা বোঝাপড়ার উপর নির্ভরশীল।

কেন এই পথে হাঁটছেন অনেকেই?

ব্যস্ত জীবনযাপন, সময়ের অভাব, মানসিক দূরত্ব—এই সব কারণেই অনেক দম্পতির মধ্যে ফাঁক তৈরি হচ্ছে। সেই শূন্যতা পূরণ করতে কেউ কেউ এই ‘মুক্ত সম্পর্ক’-এর পথ বেছে নিচ্ছেন। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আত্মতৃপ্তিকে গুরুত্ব দেওয়াও এর একটি বড় কারণ।

সম্পর্কের নতুন সমীকরণ না পুরনো মূল্যবোধের ভাঙন?

ভারতের মতো দেশে এখনও বিবাহকে পবিত্র বন্ধন হিসেবে দেখা হয়। তাই তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি অনেক সময়ই বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে ধরা হয়। এই প্রেক্ষাপটে ওপেন ম্যারেজ সমাজে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।

কী কী ঝুঁকি রয়েছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সম্পর্কে মানসিক চাপ, ঈর্ষা, নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। গোপনীয়তা বজায় না থাকলে বিশ্বাস ভেঙে যেতে পারে। এমনকি পরিবার ও সন্তানের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে কী জরুরি?

একটি সুস্থ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হল—সততা, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মান। কোনও সমস্যায় নীরব না থেকে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মত

সম্পর্কে সমস্যা থাকলে তার সমাধান খোঁজা উচিত দু’জন মিলে। শুধুমাত্র একাকীত্ব বা অসন্তোষ থেকে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া দীর্ঘমেয়াদে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

বর্তমান সময়ে সম্পর্কের ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ‘ওপেন ম্যারেজ’ বা মুক্ত বিবাহ এখন অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। তবে এই সম্পর্কের সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা জটিলতা ও ঝুঁকিও।

Leave a comment