Parenting Tips: নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, শিশুরা ঘরে যা দেখে সেটাই সবচেয়ে দ্রুত শেখে। দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরের পরিবারগুলিতে ডিসেম্বর ২০২৫-এ অভিভাবকদের কিছু ভুল আচরণ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন শিশু বাবা-মাকে সারাক্ষণ মোবাইল স্ক্রল করতে, পরস্পরকে নিয়ে ঝগড়া করতে বা দায়িত্ব এড়াতে দেখে, তারা একই প্রবণতা নিজের আচরণে যুক্ত করে। কেন শিশু এমন আচরণ শিখছে—তা বোঝার মাধ্যমেই তাদের ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে এগিয়ে দেওয়া সম্ভব।
শিশুর অভ্যাস গঠনে পরিবারই সবচেয়ে বড় প্রভাবক
শিশুরা বাড়ির পরিবেশ থেকে আত্মবিশ্বাস, ভদ্রতা, সারল্য বা আক্রমণাত্মকতা—সবই শেখে। বাড়িতে যদি প্রতিদিন উত্তেজনা বা অস্থিরতা থাকে, শিশু দ্রুত ভীত বা রাগী হয়ে উঠতে পারে।মনোবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিভাবকের আচরণই শিশুর মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। তাই শান্ত, সুস্থ এবং স্নেহময় পরিবেশ শিশুকে ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
অভিভাবকের অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার শিশুদের স্ক্রিনটাইম বাড়াচ্ছে
যখন শিশু দেখে তার মা-বাবা দিনের বেশিরভাগ সময় ফোনে ব্যস্ত, তখন সেই একই অভ্যাস তারা গ্রহণ করে। ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে, ঘুমের সমস্যা হয়, বাইরে খেলার সময় কমে যায়।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ডিজিটাল শৃঙ্খলা অভিভাবকের থেকেই শুরু হওয়া উচিত।
বাড়ির ঝগড়া শিশুদের আক্রমণাত্মক করে তুলছে
পরিবারে যদি নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ হয়, শিশুর মনে ভয়, অস্থিরতা ও রাগ বাড়ে। তারা কথোপকথনের বদলে প্রতিক্রিয়া হিসেবে আক্রমণাত্মক আচরণ শিখে ফেলে।গবেষণায় দেখা যায়, ক্রমাগত ঝগড়া দেখা শিশুর আবেগগত বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অলসতা ও দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা শিশুর মধ্যে কপি-পেস্ট হয়
যখন শিশু দেখে অভিভাবক ছোট ছোট ঘরের কাজও এড়িয়ে যাচ্ছেন, তারা মনে করে দায়িত্ব পালন জরুরি নয়।ফলে গড়িমসি, সময় অপচয় এবং দায়িত্বহীনতা তাদের স্বভাবের অংশ হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় সন্তানের আগে আদর্শ ব্যবধান নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
দিল্লির সিকে বিড়লা হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আস্থা দয়াল জানান, দুই সন্তানের মধ্যে দুই বছরের কম ব্যবধান ভাই-বোনের বন্ধনকে আরও গভীর করে তোলে।তবে তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা, মায়ের স্বাস্থ্য এবং আবেগগত প্রস্তুতির বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর হঠাৎ মিথ্যা বলার প্রবণতা—কারণ কী?
অনেক সময় শিশুরা শাস্তির ভয়ে সত্যি কথা বলতে ভয় পায়, তাই মিথ্যা বলা শুরু করে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের বোঝা উচিত—শিশু কী কারণে মিথ্যা বলছে। প্রতিবার শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করাই জরুরি।
শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের আচরণ দেখেই বেশিরভাগ অভ্যাস রপ্ত করে। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার, বাড়ির ঝগড়া, অলসতা বা দায়িত্ব এড়ানোর মতো আচরণ শিশুদের মধ্যে নেতিবাচক প্রবৃত্তি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিভাবকদের ছোট পরিবর্তনই শিশুর ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে পারে, আর ভুল অভ্যাস তাদের অনিরাপদ করে তোলে













