প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়নগরম জেলার ভোগাপুরমে নির্মিত ‘অল্লুরি সীতারামা রাজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর উদ্বোধন করেছেন। প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পকে রাজ্যের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উত্তর অন্ধ্র অঞ্চলের জন্য বিমানবন্দরটিকে একটি নতুন উন্নয়নকেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের মতে, এই বিমানবন্দর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান সংযোগ জোরদার করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন, শিল্প এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ভোগাপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার সক্ষমতা রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই সক্ষমতা বছরে ৪ কোটি যাত্রী পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমানবন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (BIM), এয়ারসাইড ৪.০ প্রযুক্তি, এয়ারপোর্ট প্রেডিক্টিভ অপারেশন সেন্টার (APOC) এবং বায়োমেট্রিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির লক্ষ্য দ্রুত, নিরাপদ ও উন্নত ভ্রমণসেবা নিশ্চিত করা।
বিমানবন্দরের স্থাপত্য নকশা স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে অনুপ্রাণিত। টার্মিনাল ভবনের ছাদের নকশা ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ কুঁড়েঘর এবং আরাকু উপত্যকার প্রাকৃতিক দৃশ্যের আদলে তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ঢেউখেলানো কাঠামো উড়ন্ত মাছের গতিশীলতা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিচয়কে তুলে ধরে। এই নকশার উদ্দেশ্য আধুনিকতা ও স্থানীয় ঐতিহ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ভোগাপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অঞ্চলের শিল্পোন্নয়নে গতি আনবে। উন্নত বিমান যোগাযোগের ফলে রপ্তানি কার্যক্রম উৎসাহিত হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং লজিস্টিকস খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় যুবকদের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিশাখাপত্তনমে স্থাপিত হতে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি এএসআইপি টেকনোলজিস প্রাইভেট লিমিটেড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রযুক্তিগত অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় গড়ে তোলা হচ্ছে।
এটি অন্ধ্র প্রদেশের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ইউনিট হবে, যা ভারত সরকারের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের অধীনে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে প্রতি বছর কোটি কোটি সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে, যা ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি শিল্পকে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্পেরও সূচনা করেন। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলিকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্ণুল অঞ্চলে গড়ে ওঠা ৪.৫ গিগাওয়াট ক্ষমতার নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
এছাড়া বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্মিত একাধিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের উদ্বোধনও করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করা।









