পাটনায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ, ঢাবা এবং ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পেয়েছেন। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে ২০৯ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাসের খরচ কিছুটা কমবে। তবে এই মূল্য সংশোধনের সুবিধা গৃহস্থালি এলপিজি গ্রাহকরা পাননি।
তেল বিপণন সংস্থাগুলির বাণিজ্যিক এলপিজির দামে পরিবর্তনের পর পাটনায় ১৯ কেজির সিলিন্ডারের নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রতিটি সিলিন্ডার কেনার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ২০৯ টাকা কম পরিশোধ করতে হবে।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমার সরাসরি প্রভাব পড়বে সেই সব ব্যবসায়ীদের উপর, যারা রান্নার জন্য বড় পরিমাণে এলপিজি ব্যবহার করেন। হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং ব্যবসা, ঢাবা এবং অন্যান্য খাদ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের ব্যবহার বেশি। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে ২০৯ টাকা সাশ্রয় মাসিক পরিচালন ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য আগের মতোই বহাল রয়েছে। ফলে গৃহস্থালি গ্রাহকরা এই দফায় মূল্য হ্রাসের সুবিধা পাননি।
বাণিজ্যিক এবং গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দামের মধ্যে পার্থক্যের কারণ, এই দুই শ্রেণির জন্য পৃথক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা। তেল বিপণন সংস্থাগুলি বাজার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে দুই শ্রেণির দামে পৃথকভাবে পরিবর্তন আনে।
পাটনায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমায় ব্যবসায়ীদের আশা, এতে তাদের পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমবে। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী, ভাড়া, বিদ্যুৎ এবং শ্রম ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে গ্যাসের দাম কমা তাদের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে।
রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায় এলপিজি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ের খাত। একটি ছোট প্রতিষ্ঠানেও প্রতি মাসে একাধিক সিলিন্ডার ব্যবহার হয়, আর বড় হোটেল ও ক্যাটারিং ব্যবসায় এর ব্যবহার আরও বেশি। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে ২০৯ টাকা সাশ্রয়ের সামগ্রিক প্রভাব ব্যবসার আকার অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
মিষ্টি ও খাদ্য ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এই মূল্য হ্রাস তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যেসব দোকানে প্রতিদিন বড় পরিমাণে খাবার বা মিষ্টি প্রস্তুত হয়, সেখানে এলপিজির ব্যবহার বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমলে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।
গৃহস্থালি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় তাদের মাসিক রান্নাঘরের বাজেটে সরাসরি কোনও প্রভাব পড়েনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বাজারে অনেক সময় বাণিজ্যিক এলপিজির মূল্য হ্রাসকে গৃহস্থালি এলপিজির দামের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। তবে দুই ধরনের সিলিন্ডারের মূল্য পৃথকভাবে নির্ধারিত হয়। তাই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমার অর্থ গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দামও একইভাবে কমবে, এমন নয়।
পাটনার গ্যাস এজেন্সিগুলিতে নতুন দরে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বিক্রি শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এই মূল্য হ্রাস ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। অন্যদিকে, গৃহস্থালি গ্রাহকদের নজর এখন পরবর্তী মূল্য সংশোধনের দিকে।
গ্যাসের দামের পরিবর্তনের প্রভাব শুধু সরাসরি সিলিন্ডার ক্রেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাদ্য প্রতিষ্ঠানগুলি পরিচালন ব্যয় কমলে তার কিছু সুবিধা গ্রাহকদেরও দিতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের ওপর নির্ভর করবে।
একদিকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমেছে, অন্যদিকে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য কোনও মূল্য হ্রাস ঘোষণা করা হয়নি। এর ফলে গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক এলপিজির মূল্য ব্যবস্থার পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
পাটনায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে ২০৯ টাকা কমানো ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ঢাবা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি নতুন দরের সুবিধা পাচ্ছে, আর গৃহস্থালি গ্রাহকদের পরবর্তী মূল্য সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।








