এনসিসি প্রধানমন্ত্রী র‍্যালি ২০২৬-এ যুবসমাজকে আত্মনির্ভর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নাগরিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এনসিসি প্রধানমন্ত্রী র‍্যালি ২০২৬-এ যুবসমাজকে আত্মনির্ভর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নাগরিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির কারিয়াপ্পা প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বার্ষিক এনসিসি প্রধানমন্ত্রী র‍্যালি ২০২৬-এ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং উপস্থিত ছিলেন। এই র‍্যালির মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এনসিসি প্রজাতন্ত্র দিবস শিবিরের সমাপ্তি হয়। শিবিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ২,৪০৬ জন এনসিসি ক্যাডেট অংশ নেন, যার মধ্যে ৮৯৮ জন ছিলেন মহিলা ক্যাডেট।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে যুবসমাজকে আত্মনির্ভর, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং জাতিসেবায় নিবেদিত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এনসিসি এমন একটি সংগঠন যা যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাসী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংবেদনশীল করে তোলে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক গড়ে তোলে। তিনি এনসিসিতে মহিলা ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে এনসিসি ক্যাডেটের সংখ্যা ১৪ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০ লক্ষে পৌঁছেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধি যুবসমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশকে প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, এনসিসি কেবল একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি যুবসমাজকে জাতিসেবা ও নাগরিক দায়িত্বের বিষয়ে সচেতন করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুবসমাজের সামনে সুযোগের অভাব নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে লাল কেল্লা থেকে তিনি বলেছিলেন, এটাই সঠিক সময়, এবং বর্তমান সময় যুবসমাজের জন্য সুযোগের সময়। তিনি বলেন, সরকার এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার যুবসমাজের জন্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের যুবশক্তির সক্ষমতা ও দক্ষতার উপর আস্থা রাখছে।

র‍্যালিতে এনসিসি ক্যাডেটদের উপস্থাপিত অপারেশন সিন্দুর-এর ঝাঁকির প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ঝাঁকিতে ভারতের সামরিক শক্তি এবং স্বদেশি অস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রদর্শনী যুবসমাজকে দেখিয়েছে যে ভারতের সেনা ও অস্ত্র ব্যবস্থা কতটা উন্নত ও উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন। তিনি বলেন, অপারেশন সিন্দুর দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

আধুনিক যুদ্ধের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সংঘাত কেবল ভৌত ময়দানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কোড ও ক্লাউডেও লড়াই হয়। তিনি বলেন, যে দেশ প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকে, তারা শুধু অর্থনীতিতেই নয়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাঁর মতে, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা উন্নত ভারত গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব উপেক্ষা করা যায় না। তিনি যুবসমাজকে আধুনিক প্রযুক্তি শেখার আহ্বান জানান এবং দেশকে আত্মনির্ভর করে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে উন্নত ভারতের অর্থ কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি উন্নত দেশ সেই দেশ, যেখানে নাগরিকরা দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংবেদনশীল। তিনি বলেন, নাগরিক কর্তব্য পালন করা প্রত্যেক যুবকের প্রধান দায়িত্ব। নাগরিকদের আচরণ, মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধও উন্নত ভারতের অংশ।

প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও মজবুত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এনসিসি এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির যুবসমাজকে নেতৃত্বগুণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে।

 

Leave a comment