প্রধানমন্ত্রী মোদির চার দিনের উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তান সফর শুরু

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার চার দিনের উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তান সফরে রওনা হয়েছেন। তাশখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর তিনি বিশকেকে ২৬তম SCO সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং সদস্য দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার চার দিনের উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তান সফরে রওনা হয়েছেন। সফরে তিনি তাশখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং পরে বিশকেকে ২৬তম শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) সম্মেলনে অংশ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি শনিবার উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। চার দিনের এই সফরে তিনি উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তান সফর করবেন এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।

উজবেকিস্তানে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির চতুর্থ সফর। তাশখন্দে পৌঁছে তিনি প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

বৈঠকে দুই দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র পর্যালোচনা করা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ এবং শিক্ষা নিয়েও আলোচনা হবে।মোদি-মিরজিয়োয়েভ বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে। দুই পক্ষ বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজা এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পারে।

সফরে ভারত ও উজবেকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় থাকবে।

ডিজিটাল সংযোগ এবং জ্বালানি সহযোগিতাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। ভারত ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা আন্তর্জাতিক স্তরে ভাগ করে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা, নতুন সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বা people-to-people exchanges-কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্র, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী এবং সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হবে।

উজবেকিস্তান সফরের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে যাবেন। সেখানে তিনি ২৬তম শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সম্মেলনে SCO-র সদস্য দেশগুলোর নেতারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। SCO ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চ, যার মাধ্যমে ভারত মধ্য এশিয়া, রাশিয়া এবং অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ে সংলাপ করে।

SCO সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি সদস্য দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করবেন। এসব বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বহুপাক্ষিক সম্মেলনের সময় হওয়া এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগ থাকে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তান সফর ভারতের মধ্য এশিয়া নীতির বৃহত্তর পরিসরের সঙ্গে যুক্ত। ভৌগোলিক অবস্থান, জ্বালানি সম্পদ, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তার কারণে মধ্য এশিয়া ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের দিকে কাজ করছে।

ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে ডিজিটাল ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় থাকবে। ভারতের ডিজিটাল সক্ষমতা এবং উজবেকিস্তানের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খোঁজা হতে পারে।

এর পাশাপাশি দুই দেশ বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য নতুন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করতে পারে।

চার দিনের সফরে ভারত ও উজবেকিস্তানের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের বিষয়েও আলোচনা হবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব থাকবে।

বিশকেকে SCO সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে তার অগ্রাধিকার তুলে ধরার এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ জোরদার করার সুযোগ পাবে।

Leave a comment