প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এই চুক্তিকে “মাদার অফ অল ডিলস” বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে নতুন দিশা দেবে।
ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের উৎপাদন খাতকে গতি দেবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি উভয় পক্ষের যৌথ অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে।
শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই চুক্তি বিশ্বের দুটি বৃহৎ অর্থনীতিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিলিয়ে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বৃহৎ সমন্বিত বাজার গড়ে উঠবে। তাঁর মতে, এটি উভয় অঞ্চলের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথ খুলে দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের শিল্প ও উৎপাদন খাতকে নতুন গতি দেবে। টেক্সটাইল, স্টিল, ওষুধ, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং যন্ত্রপাতি খাত এতে উপকৃত হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় সংস্থাগুলির জন্য ভারতে অটোমোবাইল, যন্ত্রপাতি ও ওয়াইনসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ইউরোপের বৃহৎ বাজারে ভারতের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে।
বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব চুক্তিতেও স্বাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এই চুক্তি জটিল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশে ভারত ও ইইউকে আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সাউথ ব্লকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইইউর পররাষ্ট্র বিষয়ক ও নিরাপত্তা নীতির উচ্চ প্রতিনিধি কাজা ক্যালাসকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এই সফর ভারতের ৭৫তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি ভারতের সাংবিধানিক যাত্রা ও বৈশ্বিক শান্তির প্রতি অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ, ফেডারালিজম এবং আইনের শাসনের মতো যৌথ মূল্যবোধ ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের ভিত্তি। তাঁর মতে, এই মূল্যবোধগুলিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধির জন্য বাস্তব সহযোগিতায় রূপান্তর করাই উভয় পক্ষের লক্ষ্য।
শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন এবং ইতিমধ্যেই বিশ্বে একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলা হচ্ছে। তিনি জানান, এই চুক্তি ভারতকে ইউরোপীয় বাজারে নতুন প্রবেশাধিকার দেবে এবং ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য বৈশ্বিক সুযোগ বাড়াবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাজ্য ও ইএফটিএর সঙ্গে ভারতের চুক্তিগুলিকেও সম্পূরক করবে, যার ফলে ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং বিনিয়োগের সুযোগ আরও শক্তিশালী হবে।











