তেলে ভাজা দোসা, ঝরঝরে পরোটা কিংবা উৎসবের লুচি—ভারতীয় খাবারে তেলের উপস্থিতি অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু স্বাদের লোভে প্রতিদিন শরীরে ঢুকছে কতটা তেল, তার হিসাব কি রাখছেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হিসাব ভুল হলেই নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে একাধিক মারাত্মক রোগ।
ভারতীয় রান্না ও তেলের অদৃশ্য বিপদ
সবজি, ডাল, মাছ-মাংস—প্রায় সব রান্নাতেই তেল ছাড়া স্বাদ যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু অতিরিক্ত তেল খাবারের স্বাদ বাড়ালেও শরীরের জন্য তা হয়ে উঠতে পারে ‘সাইলেন্ট কিলার’। দীর্ঘদিন বেশি তেল খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
অতিরিক্ত তেল খেলে কী কী ঝুঁকি বাড়ে?
চিকিৎসকদের মতে, খাবারে অতিরিক্ত তেল থাকলে—
হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়
রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমে ব্লকেজ তৈরি হয়
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আরও জটিল আকার নেয়
ওজন বৃদ্ধি ও ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা বাড়ে
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও মারাত্মক।
কোন তেল ভালো? কিন্তু কতটা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্ষের তেল, সূর্যমুখী তেল, তিলের তেল বা বাদাম তেল—যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, পরিমাণই আসল চাবিকাঠি। সর্ষের তেল মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ হওয়ায় তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত হলে তার উপকারও উল্টো ক্ষতিতে পরিণত হয়।
একজন মানুষের মাসে কত তেল দরকার?
ডাক্তার ও ডায়েটিশিয়ানদের পরামর্শ অনুযায়ী—
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলি (আধ লিটার) তেল যথেষ্ট
প্রতিদিন ২–৩ টেবিল চামচের বেশি তেল শরীরে যাওয়া উচিত নয়
৪ জনের পরিবারের জন্য কত তেল নিরাপদ?
যদি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন হয়, তাহলে—
মাসে ২ লিটারের বেশি তেল ব্যবহার না করাই আদর্শ
অনেক বাড়িতে যেখানে মাসে ৫–১০ লিটার তেল শেষ হয়ে যায়, সেখানে ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
কম তেলে রান্না করার সহজ টিপস
স্বাস্থ্যকর থাকতে চাইলে রান্নায় এই অভ্যাসগুলি কাজে লাগান—
নন-স্টিক বা কাস্ট আয়রন পাত্র ব্যবহার করুন
ভাজার বদলে স্টিম বা সেদ্ধ খাবার বেছে নিন
তেল ঢালার সময় বোতল নয়, চামচ ব্যবহার করুন
তেল ভালভাবে গরম হলে তবেই ভাজুন, এতে খাবার কম তেল শোষণ করে
ভারতীয় রান্নায় তেলের ব্যবহার অত্যন্ত বেশি। কিন্তু মাসে কতটা তেল ব্যবহার করলে শরীর সুস্থ থাকবে, সেই হিসাব না জানলে নীরবে বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ‘মাপ’ মেনে চললেই বহু রোগ এড়ানো সম্ভব।













