বাংলা চলচ্চিত্র ও সাহিত্যের ইতিহাসে জয়চণ্ডী পাহাড় এক অনন্য নাম। সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’র শুটিংয়ের স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে এই পাহাড়। এবার সেই নস্টালজিয়াকেই পর্যটনের সঙ্গে মেলাতে অভিনব উদ্যোগ—কটেজগুলির নামকরণে ফিরেছে রায়ের সৃষ্টি ও বাংলা সাহিত্য।
‘হীরক রাজার দেশে’র স্মৃতিতে মোড়া জয়চণ্ডী পাহাড়
পুরুলিয়া জেলার জয়চণ্ডী পাহাড় একসময় সাক্ষী ছিল সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবির শুটিংয়ের। বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই স্মৃতি মুছে যায়নি। বরং আজও পাহাড়ের প্রকৃতি, পাথুরে গঠন আর নিস্তব্ধতা যেন সেই সিনেমার দৃশ্যকেই ফিরিয়ে আনে।
![]()
কটেজে ফিরল গুপি-বাঘা ও হীরকের দরবার
জয়চণ্ডী হিল রিসর্টের কটেজগুলির নামকরণে আনা হয়েছে ‘গুপি-বাঘা’ ও ‘হীরকের দরবার’-এর মতো জনপ্রিয় চরিত্র ও স্থাননাম। রিসর্ট ম্যানেজার তপন দত্ত জানান, ছবির স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ নামকরণ, যাতে অতিথিরা থাকার মধ্যেই অনুভব করতে পারেন সিনেমার আবহ।
![]()
বাংলা সাহিত্য-চলচ্চিত্রের রঙিন মেলবন্ধন
শুধু সত্যজিৎ রায় নন, কটেজগুলির নামকরণে উঠে এসেছে বাংলা সাহিত্যেরও বহু অমূল্য সৃষ্টি। আনন্দমঠ, আরণ্যক, গীতাঞ্জলি, সোনার তরী, মেঘমল্লার, দেবশ্রী ও সোনার কেল্লা—প্রতিটি নামেই জড়িয়ে রয়েছে সাহিত্যিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গভীরতা।
![]()
পর্যটনে বাড়তি অভিজ্ঞতা
এই অভিনব নামকরণ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকেও করেছে আরও অর্থবহ। পাহাড়ের প্রকৃতির কোলে বসে কটেজের নাম পড়লেই মনে পড়ছে পরিচিত গল্প, গান আর সিনেমার দৃশ্য—এক কথায় পর্যটনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতি।
পুরুলিয়ার জয়চণ্ডী পাহাড়ে একসময় শুটিং হয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবি ‘হীরক রাজার দেশে’। সেই স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাহাড়ের কটেজগুলির নামকরণ করা হয়েছে গুপি-বাঘা, হীরকের দরবার সহ বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের আইকনিক চরিত্রে।













