ভোটের আর হাতে গোনা কয়েকদিন। ঠিক সেই সময়েই মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে ঘটল বড় রাজনৈতিক পালাবদল। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ভরতপুর ব্লক সভাপতি রফিকুল ইসলাম যোগ দিলেন কংগ্রেসে—আর সেই যোগদানের হাত ধরলেন কংগ্রেসের ‘রবিনহুড’ খ্যাত অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দলবদলে বদলাচ্ছে সমীকরণ
রবিবার সালার স্টেশন সংলগ্ন জনসভা থেকেই কংগ্রেসে যোগ দেন রফিকুল ইসলাম। এতদিন তিনি হুমায়ুন কবীর-এর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। ফলে তাঁর এই দলবদল ভরতপুরের রাজনৈতিক অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভরতপুরে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত
ভরতপুরে আগে থেকেই জোর লড়াইয়ের পরিস্থিতি ছিল। একদিকে কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আজহারউদ্দিন সিজার, অন্যদিকে নিজের দল গড়ে লড়াই করছেন হুমায়ুন কবীর। এই অবস্থায় রফিকুল ইসলামের কংগ্রেসে যোগদান লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সভামঞ্চে আক্রমণাত্মক অধীর
সভা থেকে অধীর রঞ্জন চৌধুরী সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি চলছে, উন্নয়ন থমকে রয়েছে। সংখ্যালঘু ভোট নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, মানুষের সমর্থন কংগ্রেসের দিকেই ফিরছে।
তৃণমূলকে নিশানা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কটাক্ষ করে অধীর বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষের আসল সমস্যাকে আড়াল করা হচ্ছে। শিল্প, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবেই মুর্শিদাবাদ থেকে বহু মানুষ বাইরে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
‘পরিবর্তনের হাওয়া’—দাবি কংগ্রেসের
সভা থেকে অধীরের দাবি, মুর্শিদাবাদে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে মানুষ এবার বিকল্প খুঁজছে। সেই জায়গায় কংগ্রেসই মানুষের ভরসা হয়ে উঠছে বলে তাঁর দাবি।
WB Assembly Election 2026-এর উত্তাপে মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা রফিকুল ইসলাম কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় চাপে পড়লেন হুমায়ুন কবীর। সভামঞ্চে আত্মবিশ্বাসী সুরে আক্রমণ শানালেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।









