লখনউয়ে অশোক লেল্যান্ডের ইলেকট্রিক যান উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশে প্রতিরক্ষা করিডোরের কার্যক্রম আরও জোরদার হবে, স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং রাজ্যের শিল্প ও সামরিক উৎপাদনে গতি আসবে।
শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং লখনউয়ে অশোক লেল্যান্ডের উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। এই সময়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কারখানায় উৎপাদিত হালকা সামরিক যান, মানববিহীন স্থল যান, মাইন-সুরক্ষিত যান এবং লজিস্টিক ড্রোন পর্যবেক্ষণ করেন।
রাজনাথ সিং বলেন, উত্তর প্রদেশে সরকার একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা করিডোর প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ লখনউ, কানপুর, ঝাঁসি, আগ্রা, চিত্রকূট এবং আলীগড়ে উৎপাদিত হচ্ছে। তিনি জানান, এই করিডোরে এ পর্যন্ত ৩৪,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে এবং বড় বড় সংস্থা এখানে বিনিয়োগ শুরু করেছে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং প্রত্যক্ষ আর্থিক লাভ নিশ্চিত হচ্ছে।
আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশ এখন নিজস্বভাবে অস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪৬,০০০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা রপ্তানি বর্তমানে ২৫,০০০ কোটি টাকা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই কৌশলগত রূপান্তরে উত্তর প্রদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। লখনউয়ে স্থাপিত ব্রহ্মোস কারখানার অবদান অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন সময়ে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং কর্মসংস্থান প্রণোদনা নীতি প্রণয়ন করেছে, যার উদ্দেশ্য উত্তর প্রদেশকে বৃহৎ পরিসরে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
অশোক লেল্যান্ডের ইলেকট্রিক যান উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং বলেন, এই কারখানা প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। এই কারখানা থেকে প্রতি বছর ২,৫০০টি ইলেকট্রিক যান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬০ মাসে নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মাত্র ১৮ মাসে কারখানার নির্মাণ শেষ হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। তাঁর মতে, শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশ এখন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
রাজনাথ সিং জানান, প্রতিরক্ষা ও শিল্প ইউনিট স্থাপনের ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। বড় শিল্প স্থাপনের ফলে স্থানীয় শিল্প ও কারিগরদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।











