যে বাড়িতে শীঘ্রই বিয়ের আনন্দের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে নেমে এল শোকের ছায়া। বিশ্বকাপের ব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ দেশে ফিরতে হয় রিঙ্কু সিংকে। কারণ তখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছিলেন তাঁর বাবা। কয়েকদিনের মধ্যেই এল মর্মান্তিক খবর—ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানলেন খানচন্দ্র সিং।
সংগ্রাম থেকে সাফল্য—এক বাবার অদম্য বিশ্বাস
উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিঙ্কুর ক্রিকেটযাত্রা সহজ ছিল না। সিলিন্ডার ডেলিভারির কাজ করে সংসার চালাতেন তাঁর বাবা। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ছেলের স্বপ্নকে কখনও থামতে দেননি। বহুজনের পরামর্শ ছিল রিঙ্কুকে চাকরিতে পাঠানোর, কিন্তু খানচন্দ্র সিং বিশ্বাস রেখেছিলেন—একদিন ছেলে দেশের জার্সি পরবে। সেই বিশ্বাসই আজ বাস্তব।
শেষ ইচ্ছা ছিল ছেলের বিয়ে দেখা
ছেলের আন্তর্জাতিক সাফল্যে গর্বিত ছিলেন তিনি। কিন্তু একটাই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেল—রিঙ্কুর বিয়ে দেখা। মাথায় ‘সেহরা’ বেঁধে ঘোড়ায় চড়ে ছেলেকে বরযাত্রায় যেতে দেখার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সময় সেই সুযোগ আর দিল না।
বাগদান হলেও পিছিয়েছিল বিয়ে
রিঙ্কুর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল মছলিশহরের সাংসদ Priya Saroj-এর সঙ্গে। ৮ জুন ২০২৫-এ লখনউয়ে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আংটি বদল হয়। পরিকল্পনা ছিল নভেম্বরেই বিয়ে। কিন্তু ক্রিকেট সূচির কারণে তা পিছিয়ে যায়। শোনা যাচ্ছিল ২০২৬ সালের মাঝামাঝি বিয়ে হতে পারে।
ভেন্টিলেশনে লড়াই, তবু রক্ষা হল না
চতুর্থ পর্যায়ের লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত অবনতি হয় তাঁর শারীরিক অবস্থার। গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আলিগড়ে শেষকৃত্য, অশ্রুসিক্ত পরিবেশ
মরদেহ আলিগড়ে পৌঁছতেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও ভক্তদের ভিড়ে শেষ বিদায় জানানোর দৃশ্য ছিল আবেগঘন। ক্রিকেট মাঠে দৃঢ় মানসিকতার জন্য পরিচিত রিঙ্কুও এদিন ভেঙে পড়েন বাবার স্মৃতিতে।
চতুর্থ পর্যায়ের লিভার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে প্রয়াত হলেন Rinku Singh-এর বাবা Khanchandra Singh। ছেলের বিয়ে দেখার বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হল না তাঁর। বিশ্বকাপের মাঝপথে দল ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয় রিঙ্কুকে। শোকের আবহে শেষকৃত্য সম্পন্ন আলিগড়ে।













