কলা এমন একটি ফল, যা বেশিদিন রেখে দিলে দ্রুত পেকে যায়। খোসা কালচে হয়ে অতিরিক্ত নরম হয়ে গেলে অনেকেরই আর সেই কলা খেতে ইচ্ছে করে না। ফলে দাম দিয়ে কেনা ফল নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু একটু বেশি পেকে যাওয়া কলা ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সেই কলা দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন মজাদার কয়েকটি খাবার।
কলা-ওটমিল পরিজ
অতিরিক্ত পাকা কলা দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যায় কলা-ওটমিল পরিজ। কলার প্রাকৃতিক মিষ্টি এই পদে আলাদা স্বাদ এনে দেয়। সকালের খাবার হিসেবে এটি বেশ উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে।
পাকা কলার স্মুদি
পাকা কলা দিয়ে কয়েক মিনিটেই তৈরি করা যায় ঘন ও সুস্বাদু স্মুদি। কলার সঙ্গে বাদাম মিশিয়ে নিলে স্বাদ আরও বাড়ে। অতিরিক্ত নরম হয়ে যাওয়া কলাকে কাজে লাগানোর এটি অন্যতম সহজ উপায়।
কলার প্যানকেক
পাকা কলা দিয়ে তৈরি করা যায় মজাদার প্যানকেকও। প্রথমে কলা ভালো করে চটকে নিতে হবে। তার মধ্যে দুটি বড় ডিম মিশিয়ে তৈরি করুন মিশ্রণ।মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে তাওয়ায় দিয়ে দু’পিঠ ভালোভাবে বাদামি করে সেঁকে নিন। তৈরি হয়ে যাবে কলার প্যানকেক। চাইলে জেলি, সিরাপ কিংবা বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন।
পাকা কলার আইসক্রিম
গরমের দিনে পাকা কলা দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন ঘরোয়া আইসক্রিম। এর জন্য ব্লেন্ডারে কলা, ১ টেবিল চামচ পিনাট বাটার এবং ১ টেবিল চামচ কোকো পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন।এরপর মিশ্রণটি পছন্দের আইসক্রিম মোল্ডে ঢেলে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। প্রায় ৪ ঘণ্টার মধ্যে তা জমে আইসক্রিমের মতো তৈরি হয়ে যাবে।
পাকা কলার পুষ্টিগুণও কম নয়
পাকা কলা শুধু স্বাদেই ভালো নয়, এতে বেশ কিছু পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় কলায় প্রায় ১২০ কিলোক্যালোরি এবং ৪৯০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে। পাশাপাশি কলা ভিটামিন বি৬-এরও ভালো উৎস।এছাড়াও কলায় ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন ও ফ্যাট রয়েছে। কলার প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে এবং এর ডায়েটারি ফাইবার হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়ক।
বাড়িতে কলা বেশি পেকে নরম হয়ে গেলে অনেকেই তা ফেলে দেন। কিন্তু সেই অতিরিক্ত পাকা কলা দিয়েই তৈরি করা যায় একাধিক সুস্বাদু খাবার। কলা-ওটমিল পরিজ, কলার স্মুদি, কলার প্যানকেক এবং কলার আইসক্রিম—সহজেই বানানো যায় এই চার পদ।













