শীতেই ছাদের বাগানে ফুলের স্বর্গ
শীত এলেই ছাদে বা বাড়ির উঠোনে ফুলগাছ লাগানোর ধুম পড়ে। গাঁদা, পেটুনিয়া, ডায়ান্থাসের পাশাপাশি গুলবাহারও এখন ছাদ-বাগানপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়—পাতা বড় হলেও ফুল আসে না। এর মূল কারণ গাছের সঠিক খাদ্যের অভাব।
গুলবাহার ফুলের জন্য কেন খাদ্য জরুরি
গুলবাহার গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং নিয়মিত পুষ্টি না পেলে—
কুঁড়ি ঝরে যায়
পাতা হলদে হয়ে যায়
ফুল ছোট ও কম সংখ্যায় ফোটে
তাই শুধুমাত্র জল দিলেই হবে না, প্রয়োজন সঠিক জৈব সার।
দামি সার নয়, ভরসা ঘরোয়া জৈব সার
নার্সারি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাদের বাগানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হল নিজের হাতে তৈরি জৈব সার।
এই সারে থাকে—
নাইট্রোজেন
ফসফরাস
পটাশ
প্রয়োজনীয় মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট
ফুল, ফল ও সবজি—সব ধরনের গাছেই এটি ব্যবহারযোগ্য।
সর্ষের খোল: গাছের ‘সুপারফুড’
ছাদ বাগানের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও সস্তা উপাদান হল সর্ষের খোল।
এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায়
ফুল ধরাতে সাহায্য করে
গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
এই কারণেই একে গাছের ‘সুপারফুড’ বলা হয়।
ঘরে বসেই বানান জৈব সার (ধাপে ধাপে)
যা লাগবে:
২০০ গ্রাম সর্ষের খোল
১ লিটার জল
একটি বোতল বা পাত্র
যেভাবে তৈরি করবেন:
সর্ষের খোল ১ লিটার জলে ভিজিয়ে রাখুন
পাত্রের মুখে ছোট ছিদ্র করে দিন (গ্যাস বেরোনোর জন্য)
৭ দিন রেখে দিন পচানোর জন্য
দুর্গন্ধ বেরোলে বুঝবেন সার তৈরি
এরপর এই পচা জল ১০ লিটার পরিষ্কার জলে মিশিয়ে নিন।
গুলবাহার টবে কীভাবে ব্যবহার করবেন
সপ্তাহে ৭–১০ দিন অন্তর
এক একটি মাঝারি টবে ২০০–২৫০ মিলি
সকাল বা বিকেলে ব্যবহার করুন
খেয়াল রাখবেন, সার দেওয়ার আগে মাটি সামান্য ভেজা থাকা ভালো।
ফল কী পাবেন?
এই জৈব সার নিয়মিত ব্যবহার করলে—
কুঁড়ির সংখ্যা বাড়বে
ফুল বড় ও উজ্জ্বল হবে
গাছ থাকবে সবুজ ও সতেজ
দীর্ঘদিন ফুল ফুটবে গাছে
শীতের মরশুমে ছাদের বাগানে গুলবাহার ফুল ফোটাতে আলাদা করে দামি সার কেনার প্রয়োজন নেই। নার্সারি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে তৈরি সহজ জৈব সার ব্যবহার করলেই টব ভরে উঠবে রঙিন ফুলে। জানুন সঠিক উপায় ও পরিমাণ।













