২৭ বছর বয়সেই মস্তিষ্কে টিউমার! রাস্তায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি শর্মিলা ঠাকুরের বড় মেয়ে সাবা

মাত্র ২৭ বছর বয়সে রাস্তায় জ্ঞান হারিয়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুরের বড় মেয়ে সাবা আলি খান। পরে ধরা পড়ে ব্রেন টিউমার। সোহা আলি খানের পডকাস্টে জানালেন সেই কঠিন অভিজ্ঞতা।

পতৌদি পরিবারের সদস্য হলেও সাবা আলি খান কখনও অভিনয়ের দুনিয়ায় পা রাখেননি। বরং নিজের মতো করেই জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তবে প্রচারের আড়ালে থাকা এই তারকার জীবনে এমন এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁর জীবনকে কার্যত বদলে দিয়েছিল। মাত্র ২৭ বছর বয়সে হঠাৎ রাস্তায় জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান সাবা। পরে জানা যায়, তাঁর মস্তিষ্কে রয়েছে টিউমার। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার কথাই জানিয়েছেন তিনি।

 ২৭ বছর বয়সেই মস্তিষ্কে টিউমার! রাস্তায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি শর্মিলা ঠাকুরের বড় মেয়ে সাবা
আচমকাই রাস্তায় জ্ঞান হারান সাবা

শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলি খান পতৌদির তিন সন্তানের মধ্যে সাবা অন্যতম। দাদা সইফ আলি খান এবং বোন সোহা আলি খান অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ হলেও সাবা বরাবরই আলাদা পথ বেছে নিয়েছেন।সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ নিজের অসুস্থতার প্রসঙ্গে সাবা জানান, ২৭ বছর বয়সে একদিন বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বেরিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ শরীর খারাপ লাগতে শুরু করে। আগে থেকেই পেটের সমস্যা থাকায় প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ শারীরিক অস্বস্তি বলেই ভেবেছিলেন।বন্ধুকে জানিয়েছিলেন, শরীরটা ভালো লাগছে না, বাড়ি ফিরে যেতে চান। কিন্তু তার আগেই আচমকা জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট।

পরীক্ষায় ধরা পড়ে মস্তিষ্কে টিউমার

প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সাধারণ অসুস্থতা বলে মনে হলেও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সামনে আসে বড় বিপদ। সাবার মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। প্রায় ছয় মাস ধরে পরীক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা প্রক্রিয়ার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অস্ত্রোপচারের পর জানা যায়, তাঁর টিউমারটি ছিল পাইলোসাইটিক অ্যাস্ট্রোসাইটোমা (Pilocytic Astrocytoma)। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি সাধারণত ধীরে বৃদ্ধি পাওয়া গ্রেড ১-এর ব্রেন টিউমার হিসেবে পরিচিত।

 ২৭ বছর বয়সেই মস্তিষ্কে টিউমার! রাস্তায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি শর্মিলা ঠাকুরের বড় মেয়ে সাবা
মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সাবা

হঠাৎ এমন একটি রোগের কথা জানতে পারা সাবার কাছে ছিল বড় ধাক্কা। তাঁর কথায়, একদিন সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরের দিনই জানতে পারেন মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না।কখনও কোনও কারণ ছাড়াই কান্না পেত। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ যেন আচমকাই থমকে গিয়েছিল। চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি অজানা ভবিষ্যতের ভয়ও তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন মা ও দাদা

এই কঠিন সময়ে পরিবারের সমর্থন পেয়েছিলেন সাবা। মা শর্মিলা ঠাকুর এবং দাদা সইফ আলি খান তাঁর পাশে ছিলেন। চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবারের সহযোগিতা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন সাবা। কোনও চিকিৎসা যেন অসম্পূর্ণ থেকে না যায়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক ছিলেন।

 ২৭ বছর বয়সেই মস্তিষ্কে টিউমার! রাস্তায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি শর্মিলা ঠাকুরের বড় মেয়ে সাবা
বোন সোহাকে ঘিরে জমে ছিল অভিমান

পডকাস্টে অসুস্থতার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পরিবারের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন সাবা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কঠিন সেই সময়ে ছোট বোন সোহা আলি খানকে খুব একটা পাশে পাননি বলে মনে হয়েছিল তাঁর।পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয়রা খোঁজখবর নিলেও সোহা তখন তেমন যোগাযোগ রাখেননি বলে অভিমান প্রকাশ করেন সাবা। দীর্ঘদিনের জমে থাকা সেই অনুভূতির কথাও প্রকাশ্যে আনেন তিনি।

 ২৭ বছর বয়সেই মস্তিষ্কে টিউমার! রাস্তায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি শর্মিলা ঠাকুরের বড় মেয়ে সাবা
বলিউডের আলোঝলমলে জগৎ থেকে বরাবরই দূরে থেকেছেন শর্মিলা ঠাকুর ও প্রয়াত মনসুর আলি খান পতৌদির বড় মেয়ে সাবা আলি খান। সম্প্রতি বোন সোহা আলি খানের পডকাস্টে নিজের জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের কথা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র ২৭ বছর বয়সে আচমকা জ্ঞান হারানোর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে মস্তিষ্কে টিউমার। এরপর অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ মানসিক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে।

Leave a comment