নদীতে ভেসে উঠছে থরে থরে বড় মাছ। কোথাও ব্যাগ ভর্তি করে, কোথাও আবার নৌকায় চাপিয়ে সেই মাছ তুলে আনছেন স্থানীয়রা। প্রথম দেখায় এমন দৃশ্য দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, বিনা পয়সায় মাছ পাওয়ার বড় সুযোগ এসেছে। কিন্তু এই মাছ খাওয়াই হয়ে উঠতে পারে বিপদের কারণ। ভুটানে বাঁধ ভাঙার ঘটনার পর সংকোশ নদীতে মাছের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিষক্রিয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই নদী থেকে মাছ ধরা এবং সেই মাছ কেনা বা খাওয়া—সব ক্ষেত্রেই সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
![]()
ভুটানের বিপর্যয়ের পর সংকোশ নদীতে মাছের মড়ক
ভুটানে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ও অসম সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর ঘোলা জলে ভেসে উঠছে প্রচুর মৃত মাছ। শনিবার সকাল থেকে রুই, কাতলা, বোয়াল-সহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ নদীতে ভাসতে দেখা যায়।এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে মাছ সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায়। কেউ ব্যাগে, কেউ বস্তায়, আবার কেউ নৌকা ভর্তি করে মাছ তুলে আনেন। মাছ উদ্ধারের একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
বিষাক্ত মাছ বাজারে পৌঁছনোর আশঙ্কা
প্রশাসনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ, নদী থেকে সংগ্রহ করা কয়েক টন মাছ ইতিমধ্যেই এলাকার বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের অজান্তেই সেই মাছ কেনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করতে নিষেধ করেন। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সংগ্রহ করা মাছ নিজের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে নষ্ট করার ব্যবস্থাও করেন।
![]()
কেন মারা যাচ্ছে এত মাছ?
বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সংকোশ নদীতে মাছের এই অস্বাভাবিক মৃত্যু কোনও আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভুটানে বিপর্যয় এবং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর বিপুল পরিমাণ জল ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।নদীর জলে বিষাক্ত পদার্থ, কীটনাশক কিংবা তেলের উপস্থিতির কারণে মাছগুলির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে মাছের এই মড়ক দেখা দিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও তদন্ত জরুরি।
মাছ কেনার আগে উৎস যাচাইয়ের পরামর্শ মন্ত্রীর
নদীপাড়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ জানান, উদ্ধার হওয়া মাছের একটা বড় অংশ মাটিতে পুঁতে নষ্ট করা হচ্ছে। কিন্তু তার আগেই কয়েক টন মাছ বিভিন্ন বাজারে চলে গিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে মাছ কেনার সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্রেতাদের ভাল করে দেখে নিতে হবে তাঁরা কী ধরনের মাছ কিনছেন এবং মাছগুলি কোথা থেকে এসেছে। সন্দেহজনক উৎসের মাছ কেনা বা খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
![]()
ভুল করে খেলেই বিপদের আশঙ্কা
স্বাভাবিকভাবে মারা না গিয়ে বিষক্রিয়া বা অন্য কোনও দূষণের কারণে মৃত মাছ খেলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নদীর জলে কী ধরনের দূষণ ছড়িয়েছে, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই মাছ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।তাই শুধু মাছের আকার বা সতেজ চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। মাছের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে তা না কেনাই নিরাপদ। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
![]()
ভুটানে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বাঁধ ভাঙার ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ ও অসম সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীতে দেখা দিয়েছে মাছের মড়ক। নদীর জলে ভেসে উঠছে রুই, কাতলা, বোয়াল-সহ নানা প্রজাতির বড় মাছ। স্থানীয়দের একাংশ সেই মাছ ধরতে শুরু করলেও, বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তা না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের বনমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁ নিজে দাঁড়িয়ে উদ্ধার হওয়া মাছ মাটিতে পুঁতে নষ্ট করার ব্যবস্থা করেছেন। তবে কয়েক টন মাছ ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাজারে পৌঁছে যাওয়ায় ক্রেতাদের সতর্ক করেছেন তিনি।












