বয়স মাত্র কয়েক বছর, অথচ সাফল্যের মুকুটে ইতিমধ্যেই জুড়েছে জাতীয় স্তরের সোনার পদক। এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের প্রতিভা দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির জ্যোতি বল। রাজস্থানের জয়পুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় যোগাসন প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে প্রথম স্থান দখল করেছে সে। এই সাফল্যের হাত ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত এশিয়ান যোগাসন প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ছোট্ট জ্যোতি। তার এই কৃতিত্বে আনন্দের হাওয়া মেমারি থেকে গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে।
![]()
১২০০ প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে জাতীয় স্তরে সোনা জয়
রাজস্থানের জয়পুরে আয়োজিত ৫১তম সাব-জুনিয়র ও জুনিয়র জাতীয় যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে মেমারির জ্যোতি বল। ১০ থেকে ১২ বছর বয়সি বালিকা বিভাগে প্রতিযোগিতা করে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সে।গত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর জয়পুরের অলঙ্কার পিজি গার্লস কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১২০০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেও নিজের দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের জোরে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেয় জ্যোতি।জাতীয় স্তরে এই সাফল্যের পাশাপাশি বেঙ্গল অলিম্পিকেও অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে সে।
এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই
জাতীয় প্রতিযোগিতায় সোনা জয়ের পর এবার জ্যোতির সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত ১১তম এশিয়ান যোগাসন প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে মেমারির এই খুদে প্রতিভা।দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ যে কোনও ক্রীড়াবিদের কাছেই বড় প্রাপ্তি। জ্যোতির ক্ষেত্রেও এই সুযোগ তার দীর্ঘদিনের অনুশীলন ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। এবার এশিয়ান প্রতিযোগিতায় ভালো পারফরম্যান্স করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করাই তার লক্ষ্য।
মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই যোগাসনের অনুশীলন
জ্যোতির যোগাসন যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারে ছোটবেলায়। মাত্র তিন বছর বয়সে মেয়ের শারীরিক বিকাশের কথা ভেবে মা গৌরী বল তাকে যোগাসন প্রশিক্ষণে ভর্তি করান।এরপর মেমারি যোগ থেরাপি সেন্টারের প্রশিক্ষক নয়ন মজুমদারের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় নিয়মিত অনুশীলন। প্রথম দিকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় চতুর্থ কিংবা পঞ্চম স্থান পেলেও হতাশ হয়নি জ্যোতি। বরং প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছে।নিয়মিত চর্চা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মানুবর্তিতার ফলেই ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছে সে। অবশেষে জাতীয় মঞ্চে স্বর্ণপদক জিতে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে এই খুদে যোগাসনশিল্পী।
![]()
মেয়ের সাফল্যের পিছনে পরিবারের বড় ভূমিকা
জ্যোতির এই সাফল্যের পিছনে পরিবারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বাবা অসিত বল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। অন্যদিকে, মেয়ের যোগাসন শেখা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবসময় পাশে থেকেছেন মা গৌরী বল।ছোটবেলা থেকেই মেয়ের প্রতিভাকে উৎসাহ দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রশিক্ষকের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতেও পরিবার তাকে সহযোগিতা করেছে।জেলা ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের পর এবার জাতীয় স্তরেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করল জ্যোতি।
জ্যোতির সাফল্যে গর্বিত মেমারি ও বিষ্ণুপুর
জ্যোতি বিষ্ণুপুর যুব সংঘ পাঠাগার ক্লাবের ছাত্রী। জাতীয় স্তরে তার এই অসাধারণ সাফল্যে খুশি বিষ্ণুপুর গ্রাম, মেমারি যোগ থেরাপি সেন্টার এবং এলাকার বাসিন্দারা।একসময় যে মেয়েটি প্রতিযোগিতায় চতুর্থ বা পঞ্চম স্থান অর্জন করত, আজ সেই মেয়েই জাতীয় স্তরে সোনার পদক জিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তার এই সাফল্য এলাকার অন্যান্য ছোটদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।এবার দক্ষিণ কোরিয়ার মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে আরও বড় সাফল্য অর্জন করাই জ্যোতির স্বপ্ন।
![]()
পূর্ব বর্ধমানের মেমারির ছোট্ট মেয়ে জ্যোতি বলের সাফল্যে গর্বিত গোটা জেলা। রাজস্থানের জয়পুরে আয়োজিত ৫১তম সাব-জুনিয়র ও জুনিয়র জাতীয় যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সি বালিকা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক জিতেছে সে। এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলা ১১তম এশিয়ান যোগাসন প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে জ্যোতি। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে যোগাসনের অনুশীলন শুরু করা এই খুদের সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং পরিবারের সহযোগিতা।









