সরস্বতীপুজোয় সব বাড়িতে নিরামিষ নয় কেন? পূর্ববঙ্গে কেন আজও চলে জোড়া ইলিশের প্রথা

সরস্বতীপুজোয় জোড়া ইলিশ খাওয়ার প্রথা কেন? পূর্ববঙ্গের ‘ইলিশের বিয়ে’ রীতি, শ্রীপঞ্চমী ও এর সাংস্কৃতিক অর্থ সহজ বাংলায় জানুন।

রাত পোহালেই বসন্ত পঞ্চমী। হলুদ শাড়ি-পাঞ্জাবিতে সেজে বাগদেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে বাংলা। বেশিরভাগ বাড়িতেই এই দিন নিরামিষ ভোগের রীতি থাকলেও, কিছু পরিবারে কিন্তু রান্নাঘরে ঢোকে জোড়া ইলিশ! প্রশ্ন উঠছে—সরস্বতীপুজোর দিনে কেন এই ব্যতিক্রমী মাছের প্রথা?

বসন্ত পঞ্চমী ও সরস্বতীপুজোর মাহাত্ম্য

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর ২২ জানুয়ারি পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতীপুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দিন বিধি মেনে পূজা করলে ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস। তাই শিক্ষাজগৎ থেকে কর্মজীবী—সবার কাছেই এই দিন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

কেন সাধারণত নিরামিষ ভোগই প্রচলিত

সরস্বতী দেবী বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী। তাই তাঁর পূজায় শুদ্ধতা ও সংযমের প্রতীক হিসেবে খিচুড়ি, লাবড়া, পায়েস, মিষ্টি বোঁদে, রাজভোগের মতো নিরামিষ ভোগ দেওয়ার রীতি দীর্ঘদিনের। এর পরদিন শীতল ষষ্ঠী হওয়ায় অনেক বাড়িতেই ‘অরন্ধন’ পালন করা হয়।

জোড়া ইলিশের প্রথা এল কোথা থেকে?

তবে সরস্বতীপুজোর দিনেই পালিত হয় শ্রীপঞ্চমী। আর শ্রীপঞ্চমী উপলক্ষেই পূর্ববঙ্গের বহু পরিবারে জোড়া ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সরাসরি সরস্বতী দেবীর সঙ্গে এই মাছের কোনও ধর্মীয় যোগ না থাকলেও, একই দিনে দুই আচার মিলেই এই ব্যতিক্রমী রীতি তৈরি হয়েছে।

‘ইলিশের বিয়ে’—লোকাচারের এক অনন্য রূপ

পূর্ববঙ্গের কিছু পরিবারে আজও পালিত হয় ‘ইলিশ বরণ’ ও ‘ইলিশের বিয়ে’। দূর্বা, তেল ও সিঁদুর দিয়ে মাছটিকে সাজিয়ে, উলু ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে শুভ কাজের সূচনা করা হয়। এই প্রথা মূলত সমৃদ্ধি, উর্বরতা ও মঙ্গলের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয়।

বিশ্বাস বনাম বিধি

জ্যোতিষবিদদের মতে, যেহেতু সরস্বতীপুজোর ভোগ দেবীর উদ্দেশে নিবেদিত, তাই নিরামিষ মানাই শ্রেয়। তবে ইলিশ খাওয়ার রীতি আলাদা সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, যা পূজার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক নয়।

সরস্বতীপুজো মানেই কি নিরামিষ ভোগ? বাংলার সব বাড়িতে কিন্তু তা নয়। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের বহু পরিবারে বসন্ত পঞ্চমীতে জোড়া ইলিশ বরণ ও ‘ইলিশের বিয়ে’ দেওয়ার প্রথা আজও অটুট। জানুন এই রীতির নেপথ্যের ইতিহাস ও বিশ্বাস

Leave a comment