সিজন চেঞ্জের জ্বরে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক নয়! আয়ুর্বেদিক উপায়েই মিলতে পারে স্বস্তি—বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

সিজন চেঞ্জের জ্বরে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক নয়! আয়ুর্বেদিক উপায়েই মিলতে পারে স্বস্তি—বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

সামান্য জ্বর, গলা ব্যথা বা সর্দি হলেই অ্যান্টিবায়োটিক—এই প্রবণতা আজকাল অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশের মতে, সিজন চেঞ্জের কারণে হওয়া জ্বর বা সর্দি-কাশিতে সবসময় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। বরং ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন ভবিষ্যতে শরীরের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

আবহাওয়ার বদলেই বাড়ছে অসুখ

দিনের বেলা গরম, রাতে ঠান্ডা—এই তাপমাত্রার ওঠানামা শরীরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে জ্বর, কাশি ও সর্দির মতো সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রোগীর ভিড়ও বাড়ছে প্রতিদিন।

অ্যান্টিবায়োটিক সব সমস্যার সমাধান নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, মরশুমি জ্বর বা ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কোনও কাজই করে না। বরং প্রয়োজনের বাইরে এই ওষুধ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে গুরুতর সংক্রমণের সময় ওষুধ কাজ নাও করতে পারে।

আয়ুর্বেদ বলছে—প্রকৃতিতেই আছে সমাধান

আয়ুর্বেদিক বিভাগের সিনিয়র কম্পাউন্ডার জগমোহন পরাশরের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় কিছু সহজ ঘরোয়া প্রতিকার নিলেই শরীরকে অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব। তাঁর কথায়, প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

এই ভেষজ পানীয়েই মিলবে স্বস্তি

তুলসী পাতা, আদা, গোলমরিচ ও লবঙ্গ—এই চারটি উপাদান জলে সেদ্ধ করে পান করলে সর্দি-কাশি ও জ্বরের উপসর্গ অনেকটাই কমে। নিয়মিত এই পানীয় খেলে শরীর ভিতর থেকে শক্তিশালী হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।

খাদ্যাভ্যাসেও আনুন বদল

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সময় হালকা ও গরম খাবার খাওয়া জরুরি। সহজে হজম হয় এমন খাবার শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। ঠান্ডা জল, বরফ বা অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

আয়ুর্বেদিক চূর্ণেও উপকার মিলতে পারে

সিতোপলাদি চূর্ণ, তালিসাদি চূর্ণ ও ত্রিকটূ চূর্ণ দিয়ে তৈরি ক্বাথ বহুদিন ধরেই মরশুমি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। আয়ুর্বেদ মতে, এই ওষুধগুলি শরীরের ভিতর থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই কাজ করে।

কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি জ্বর দীর্ঘদিন না সারে, খুব বেশি দুর্বলতা দেখা দেয় বা কাশি-সর্দি গুরুতর আকার নেয়, তা হলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ঘরোয়া চিকিৎসা কখনওই গুরুতর রোগের বিকল্প নয়।

আবহাওয়ার বদলের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ বাড়ছে। সামান্য উপসর্গেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা বাড়লেও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরশুমি জ্বরে ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক প্রতিকারই বেশি নিরাপদ। তুলসী, আদা থেকে আয়ুর্বেদিক চূর্ণ—কোন উপায়ে মিলতে পারে স্বস্তি, জানুন বিস্তারিত।

Leave a comment