শ্যামাপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ? সন্ধ্যায় আলো জ্বালালেই ঘরে ঢুকছে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা, তাড়াতে কাজে আসতে পারে এই ৬টি ঘরোয়া উপায়

সন্ধ্যায় আলো জ্বালালেই ঘরে ঢুকছে শ্যামাপোকা? নিমপাতা, এসেনশিয়াল অয়েল ও আরও কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন। পাশাপাশি মেনে চলুন পোকা প্রবেশ আটকানোর সহজ উপায়।

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে বাংলার বহু বাড়িতে শুরু হয়েছে শ্যামাপোকার উৎপাত। সন্ধেবেলা ঘরের আলো জ্বালাতেই জানালা, বারান্দা কিংবা দরজা দিয়ে উড়ে আসছে অসংখ্য ছোট সবুজ পোকা। কখনও খাবারের উপর বসছে, কখনও চোখেমুখে এসে বিরক্ত করছে। কালীপুজোর মরশুমে এই সমস্যা আরও বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু কীভাবে কমাবেন এই পোকার উপদ্রব? কয়েকটি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতির পাশাপাশি কিছু সতর্কতা মেনে চললে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হতে পারে।

শ্যামাপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ? সন্ধ্যায় আলো জ্বালালেই ঘরে ঢুকছে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা, তাড়াতে কাজে আসতে পারে এই ৬টি ঘরোয়া উপায়
আলো দেখেই কেন ঘরের দিকে ছুটে আসে শ্যামাপোকা?

শ্যামাপোকা নামে পরিচিত এই ছোট সবুজ পোকাদের ইংরেজিতে গ্রিন লিফহপার বলা হয়। এরা সাধারণত ধানগাছের রস খেয়ে বেঁচে থাকে। ধানের জমিতে ফসলের বৃদ্ধির সময় এদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।রাতের কৃত্রিম আলো অনেক নিশাচর পতঙ্গের স্বাভাবিক দিক নির্ণয়ের পদ্ধতিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ফলে বাড়ির বাল্ব, টিউব লাইট কিংবা উজ্জ্বল আলোকে কেন্দ্র করে এরা ঘুরতে থাকে। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ধানগাছের শিষ বেরোনোর সময় এদের আনাগোনা বাড়তে পারে। তাই কালীপুজোর আশপাশের সময়ে শ্যামাপোকার উপদ্রব বেশি নজরে আসে।

বেকিং সোডা ও পাতিলেবুর মিশ্রণ

এক কাপ জলে এক চামচ বেকিং সোডা এবং একটি পাতিলেবুর রস মিশিয়ে স্প্রে বোতলে রাখতে পারেন। তবে এই মিশ্রণ শ্যামাপোকা তাড়াতে নিশ্চিতভাবে কার্যকর, এমন প্রমাণ নেই। বৈদ্যুতিক বাল্ব, সুইচ বা সকেটের গায়ে সরাসরি স্প্রে করবেন না। চাইলে জানালার আশপাশের পরিষ্কার করা যায় এমন জায়গায় অল্প পরীক্ষা করে ব্যবহার করতে পারেন।

শ্যামাপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ? সন্ধ্যায় আলো জ্বালালেই ঘরে ঢুকছে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা, তাড়াতে কাজে আসতে পারে এই ৬টি ঘরোয়া উপায়
নিমপাতা রাখতে পারেন জানালার কাছে

নিমপাতার গন্ধ অনেকের কাছে পোকামাকড় দূরে রাখার ঘরোয়া উপায় হিসেবে পরিচিত। বাড়ির বারান্দা, জানালা কিংবা প্রবেশপথের কাছে কয়েকটি নিমপাতা রাখতে পারেন। তবে শুধু নিমপাতা রাখলেই শ্যামাপোকা আর আসবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই।

গোলমরিচের গুঁড়ো ব্যবহার করার আগে সতর্কতা

জলে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু শ্যামাপোকা নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়। গোলমরিচের গুঁড়ো চোখ, নাক ও ত্বকে জ্বালা তৈরি করতে পারে। তাই ঘরের বাতাসে বা খাবারের আশপাশে এই মিশ্রণ ছড়ানো এড়িয়ে চলুন।

এসেনশিয়াল অয়েলের গন্ধ

ইউক্যালিপটাস, লেমন বা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েলের গন্ধ কিছু পোকামাকড়কে বিরক্ত করতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে শ্যামাপোকা তাড়ানোর ক্ষেত্রে এগুলির কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়। ব্যবহার করলে অল্প পরিমাণে এবং নির্দেশিকা মেনে ব্যবহার করুন। শিশু ও পোষ্য প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখুন।

শ্যামাপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ? সন্ধ্যায় আলো জ্বালালেই ঘরে ঢুকছে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা, তাড়াতে কাজে আসতে পারে এই ৬টি ঘরোয়া উপায়
টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সাবধান

টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে স্প্রে করার কথাও অনেক ঘরোয়া টোটকায় বলা হয়। কিন্তু এটি শ্যামাপোকা দূর করার প্রমাণিত উপায় নয়। বিশেষ করে পোষ্য প্রাণী থাকলে সতর্ক থাকুন, কারণ টি ট্রি অয়েল প্রাণীদের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কাছেও কোনও তেল বা তরল স্প্রে করবেন না।

দরজা-জানালায় নেট লাগান, আলো ব্যবহারে বদল আনুন

শ্যামাপোকা ঘরে ঢোকা কমানোর সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়গুলির মধ্যে রয়েছে দরজা-জানালায় মশারি বা ফাইন মেশ নেট লাগানো। সন্ধ্যার সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরের আলো বন্ধ রাখুন। সম্ভব হলে জানালার একেবারে পাশে উজ্জ্বল আলো না জ্বালিয়ে ঘরের ভিতরের দিকে আলো রাখুন। দরজা খোলা রাখার সময়ও সতর্ক থাকুন।

শ্যামাপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ? সন্ধ্যায় আলো জ্বালালেই ঘরে ঢুকছে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা, তাড়াতে কাজে আসতে পারে এই ৬টি ঘরোয়া উপায়
কালীপুজোর আগে ও পরে সন্ধ্যা নামলেই বাড়ির আলো ঘিরে জড়ো হচ্ছে ছোট ছোট সবুজ শ্যামাপোকা। জানালা-দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে খাবার, রান্নাঘর ও আলোর আশপাশে বিরক্তি তৈরি করছে তারা। রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারেন। তবে বেকিং সোডা, নিমপাতা বা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করলেই পোকা সম্পূর্ণ দূর হবে, এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।

Leave a comment