নতুন বছরের ব্যস্ত পর্যটন মরশুমে ভোরের ঘুম ভাঙাল ভূমিকম্প। শনিবার সকাল সাড়ে পাঁচটার কিছু পর আচমকাই কেঁপে ওঠে সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘুমের মধ্যেই কম্পন অনুভব করে আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েন বহু মানুষ। পর্যটকদের মধ্যেও তৈরি হয় হুড়োহুড়ি।

কতটা শক্তিশালী ছিল কম্পন?
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৯, যা মাঝারি মাত্রার কম্পন হিসেবে ধরা হয়।
কোথায় ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল?
সিসমোলজি দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী—
কেন্দ্রস্থল: সোরেং, সিকিম
অক্ষাংশ: ২৭.২১° উত্তর
দ্রাঘিমাংশ: ৮৮.২৪° পূর্ব
গভীরতা: ভূগর্ভের প্রায় ৫ কিলোমিটার
কম্পন স্থায়ী হয়েছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
ভোরের ঘুম ভাঙাল আতঙ্ক
ভূমিকম্পের সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে খাট, আলমারি ও আসবাবপত্র কেঁপে ওঠায় অনেকেই প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটছে। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু বাসিন্দা নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

পর্যটকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি
নতুন বছরের শুরুতে সিকিমে পর্যটকদের ভিড় থাকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। হোটেল ও রিসর্টে থাকা বহু পর্যটক ভূমিকম্প অনুভব করেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ তড়িঘড়ি করে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন, কোথাও কোথাও দেখা যায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও।
ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা সিকিম
হিমালয় সংলগ্ন এই রাজ্যটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবেই পরিচিত। অতীতেও এখানে একাধিকবার ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই স্মৃতি এখনও সিকিমবাসীর মনে দগদগে।
প্রশাসনের নজরদারি
ভূমিকম্পের পরপরই গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার ভোরে সিকিমে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৯। ভূমিকম্পের জেরে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।












