অনেকেই রাতে জোরে নাক ডাকেন, অথচ সেই শব্দে তাঁদের নিজের ঘুম ভাঙে না। কিন্তু আশপাশে ফোন বেজে উঠলে, অ্যালার্ম বাজলে বা সামান্য খুটখাট শব্দ হলেও ঘুম ভেঙে যায়। তাহলে নিজের নাক ডাকার শব্দ কেন কানে যায় না? এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের এক চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক কৌশল।
মস্তিষ্ক কেন নিজের নাক ডাকার শব্দকে উপেক্ষা করে?
ঘুমের সময় আমাদের কান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। বাইরের শব্দ কানে পৌঁছায় এবং তার সংকেত মস্তিষ্কেও যায়। কিন্তু মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ— থ্যালামাস— এই শব্দগুলিকে বেছে বেছে প্রক্রিয়াকরণ করে।নিজের নাক ডাকার শব্দ যেহেতু শরীরের ভিতর থেকেই তৈরি হয় এবং মস্তিষ্কের কাছে পরিচিত, তাই সেটিকে সাধারণত বিপদের সংকেত হিসেবে ধরা হয় না। ফলে এই শব্দ অনেক সময় ফিল্টার হয়ে যায় এবং ঘুম ভাঙে না।
কিন্তু ফোন বা অ্যালার্মে কেন ঘুম ভেঙে যায়?
বাইরের কোনও হঠাৎ বা অচেনা শব্দ— যেমন ফোন, অ্যালার্ম বা কলিং বেল— মস্তিষ্ক বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। কারণ এমন শব্দ সম্ভাব্য বিপদ বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই থ্যালামাস সেই সংকেতকে ঘুম ভাঙানোর মতো গুরুত্ব দেয়।
নাক ডাকে কেন?
নাক ডাকার মূল কারণ শ্বাসপ্রশ্বাসের পথের পরিবর্তন।গভীর ঘুমে গলা ও জিভের পেশি শিথিল হয়ে গেলে শ্বাসনালির পথ কিছুটা সরু হয়ে যেতে পারে। তখন বাতাস সরু পথ দিয়ে জোরে চলাচল করলে গলার নরম টিস্যু কাঁপতে থাকে। এই কম্পনের ফলেই নাক ডাকার কর্কশ শব্দ তৈরি হয়।
নাক ডাকার সময়ও কি ঘুম ভাঙে?
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক নাক ডাকা মানুষের রাতের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বারবার ঘুম হালকা হয়ে যায়। একে বলা হয় মাইক্রো-অ্যারাউজাল।অনেকেই কয়েক মুহূর্তের জন্য জেগে উঠলেও পরে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। তাই সকালে উঠে সেই ছোট ছোট জেগে ওঠার ঘটনাগুলো মনে থাকে না।
কখন সতর্ক হবেন?
সব নাক ডাকা বিপজ্জনক নয়। তবে যদি—
- খুব জোরে নাক ডাকেন,
- ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে,
- হঠাৎ হাঁফিয়ে উঠে বসতে হয়,
- দিনে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম লাগে,
তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলি স্লিপ অ্যাপনিয়া-র লক্ষণ হতে পারে, তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘুমের মধ্যে ফোন, অ্যালার্ম বা কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলেও নিজের নাক ডাকার আওয়াজে সাধারণত ঘুম ভাঙে না। এর কারণ, মস্তিষ্ক নিজের শরীর থেকে তৈরি হওয়া পরিচিত শব্দকে অনেক সময় ‘নিরাপদ’ ধরে ফিল্টার করে দেয়। তবে অতিরিক্ত নাক ডাকা কখনও কখনও স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।













