সোনম ওয়াংচুকের আটকাদেশ নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে। তাঁর স্ত্রী এনএসএ-কে বেআইনি বলেছেন, যখন কেন্দ্র ও প্রশাসন এই আটকাদেশকে সঠিক বলে দাবি করছে। আদালতের রায়ের উপর তাঁর মুক্তি বা আটকাদেশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজস্থান: লাদাখের সুপরিচিত জলবায়ু কর্মী এবং শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের আটকাদেশ নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা। ওয়াংচুক বর্তমানে রাজস্থানের যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি আছেন। তাঁর গ্রেপ্তার এবং তাঁর উপর জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA) প্রয়োগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।
আজকের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে তাদের বক্তব্য পেশ করবেন। যদি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর যুক্তিগুলিতে সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির নির্দেশও জারি হতে পারে। অন্যদিকে, যদি প্রশাসনের যুক্তিগুলিকে শক্তিশালী বলে মনে করা হয়, তাহলে তাঁর সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
স্ত্রী তাঁর আবেদনে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন
সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো সুপ্রিম কোর্টে ‘হেবিয়াস কর্পাস’ অর্থাৎ বন্দী প্রত্যর্পণ আবেদন দায়ের করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে যে ওয়াংচুকের গ্রেপ্তার বেআইনি এবং এটি তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
স্ত্রীর অভিযোগ যে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এবং তাড়াহুড়ো করে এনএসএ প্রয়োগ করা হয়েছে। আটক করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিয়মাবলী এবং আইনি বিধানগুলি অনুসরণ করা হয়নি। আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে ওয়াংচুক শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর বক্তব্য পেশ করছিলেন এবং তাঁর কার্যকলাপ কোনোভাবেই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল না।
আগের শুনানিতে কী হয়েছিল
এই মামলার আগের শুনানি বুধবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি পি.বি. ভারালের বেঞ্চের সামনে হয়েছিল। সেই সময় আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতকে একটি ভিডিও দেখানোর অনুমতি চেয়েছিলেন।
তবে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার ব্যস্ততার কারণে সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজকের জন্য স্থগিত করে দিয়েছিল। এই কারণেই আজকের শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ এবং সম্পূর্ণ বিতর্ক
অন্যদিকে, লাদাখ প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দাখিল করে সোনম ওয়াংচুকের আটকাদেশকে সঠিক বলে দাবি করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য যে, ওয়াংচুক লেহ-তে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তাঁর কার্যকলাপ জনশৃঙ্খলা এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলির জন্য হুমকি হতে পারতো। প্রশাসন অনুযায়ী, লেহ-এর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ২৬ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে তাঁর আটকাদেশের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।
আসল বিতর্ক তখন শুরু হয়েছিল যখন সোনম ওয়াংচুক লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে বিশেষ মর্যাদা এবং পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রা বের করছিলেন। এই সময়ে তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে এনএসএ-এর অধীনে যোধপুর জেলে পাঠানো হয়। এখন সকলের চোখ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উপর, যা নির্ধারণ করবে সোনম ওয়াংচুক স্বাধীনতা পাবেন নাকি তাঁর আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হবে।










