Tapeworms Alert: শীতের এই ৪ সবজিতে লুকিয়ে ফিতাকৃমির ভয়! শরীরে ঢুকেই পৌঁছে যায় ব্রেনে, কুরে কুরে নষ্ট করে টিস্যু

ফুলকপি, বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম ও বেগুনে লুকিয়ে থাকতে পারে ফিতাকৃমি। কীভাবে ব্রেনে পৌঁছে মারাত্মক রোগ ঘটায়, জানুন সতর্কতার উপায়।

শীত মানেই টাটকা সবজির ছড়াছড়ি। কিন্তু জানেন কি, এই শীতেরই কিছু পরিচিত সবজি আপনার অজান্তে ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ? চিকিৎসকদের মতে, ঠিকমতো পরিষ্কার ও রান্না না করা হলে এই সবজির মাধ্যমেই শরীরে ঢুকে পড়ে ফিতাকৃমির ডিম ও লার্ভা, যা সরাসরি আক্রমণ করতে পারে মস্তিষ্কে।

ফিতাকৃমি কীভাবে পৌঁছয় ব্রেনে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমিত খাবার বা জল থেকে ফিতাকৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করে। পরে সেখান থেকে লার্ভা তৈরি হয়ে তা রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এই অবস্থাকেই বলা হয় নিউরোসিস্টিসারকোসিস—যা খিঁচুনি, প্রবল মাথাব্যথা, স্নায়ুর সমস্যা ও মৃগীর প্রধান কারণগুলির একটি।

শীতে যে ৪ সবজিতে সবচেয়ে বেশি ফিতাকৃমির আশঙ্কা

ফুলকপি

ফুলকপির ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকে অদৃশ্য কৃমি ও ডিম। অনেক সময় খালি চোখে ধরা পড়ে না। ভুল করে এই কৃমি শরীরে ঢুকলে তা পৌঁছে যেতে পারে ব্রেনে, ক্ষতি করতে পারে পেশি, লিভার ও মস্তিষ্কের টিস্যুতে।

সতর্কতা: রান্নার আগে ফুলকপি কেটে লবণ-গরম জলে ভাপিয়ে সেই জল ফেলে দিন।

বাঁধাকপি

বাঁধাকপির স্তরের মধ্যে বাসা বাঁধে ফিতাকৃমি। ঠিকমতো না ধুয়ে রান্না করলে কৃমির ডিম পেটে চলে যায় এবং সেখানেই বংশবিস্তার শুরু করে। পরবর্তীতে তা মস্তিষ্কেও পৌঁছাতে পারে।

সতর্কতা: কাঁচা বাঁধাকপি একেবারেই খাবেন না। ভালোভাবে ধুয়ে গরম জলে ভাপিয়ে রান্না করুন।

ক্যাপসিকাম

ক্যাপসিকামের বীজ ও ভেতরের অংশে ফিতাকৃমির ডিম থাকার সম্ভাবনা বেশি। ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে সংক্রমণ ঘটতে পারে।

সতর্কতা: রান্নার আগে বীজ বের করে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। কাঁচা না খাওয়াই নিরাপদ।

বেগুন

বেগুনের ভেতরে অনেক সময় কৃমি বাসা বাঁধে। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও কাটার পর পোকা দেখা দিলে সেটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। অনেক ক্ষেত্রে এই কৃমি ভালোভাবে রান্না করলেও মারা যায় না।

সতর্কতা: পোকা ধরা বেগুন সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন।

কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে?

 ঘন ঘন খিঁচুনি

 তীব্র মাথাব্যথা

 চোখে ঝাপসা দেখা

 স্নায়ুর দুর্বলতা

 মৃগীর লক্ষণ

এই উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শীতের মরশুমি কিছু জনপ্রিয় সবজিতে অজান্তেই লুকিয়ে থাকতে পারে ফিতাকৃমি (Tapeworm)। সংক্রমিত সবজি বা জল থেকে শরীরে ঢুকে এই কৃমির লার্ভা পৌঁছে যেতে পারে মস্তিষ্কে, তৈরি করতে পারে নিউরোসিস্টিসারকোসিস। এর জেরে খিঁচুনি, মাথাব্যথা, স্নায়ুর অসুখ এমনকি মৃগীর মতো প্রাণঘাতী সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ে।

 

Leave a comment