দীর্ঘদিনের জীর্ণ অবস্থার পর অবশেষে সংস্কারের পথে তিলপাড়া ব্যারেজ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যারেজের উপর যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বর্ষার আগেই গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যারেজকে নিরাপদ করতে এক মাসের বিশেষ মেরামতি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে সাময়িক ভোগান্তি বাড়লেও ভবিষ্যতের বড় দুর্ঘটনা এড়াতেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
![]()
ব্যারেজ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিলপাড়া ব্যারেজের দু’প্রান্ত ব্যারিকেড ও ডিভাইডার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন। চারচাকা, বাইক কিংবা ভারী যান— কোনও ধরনের গাড়িকেই ব্যারেজে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য ফুটপাথ খোলা রাখা হয়েছে।
কেন জরুরি হল এই সংস্কার?
গত বর্ষাতেই ব্যারেজের কয়েকটি এক্সটেনশন ওয়াটার ডিভাইডার পিলার ভেঙে পড়েছিল। সেই সময় অস্থায়ীভাবে সংস্কার করা হলেও পরে ফের একাধিক ত্রুটি ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে ব্যারেজের কিছু অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। বর্ষার সময় অতিরিক্ত চাপ পড়ার আগেই স্থায়ী মেরামতির সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
![]()
এক মাস বন্ধ থাকবে যান চলাচল
প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৭ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ব্যারেজের উপর দিয়ে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ব্যারেজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হবে। স্থানীয় বাস পরিষেবা ব্যারেজের এক প্রান্ত পর্যন্ত চলবে। এরপর যাত্রীদের হেঁটে ব্যারেজ পার হয়ে অন্য প্রান্ত থেকে বাস ধরতে হবে।
দূরপাল্লার গাড়ির জন্য বিকল্প রাস্তা
দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য সিউড়ি-সাঁইথিয়া রাস্তাকে বিকল্প রুট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যানজট এড়াতে ওই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিকেও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
![]()
সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাইল প্রশাসন
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সাময়িক অসুবিধা হলেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরে বিকল্প পথ ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্যারেজ ফের চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
![]()
বীরভূমের সিউড়ি সংলগ্ন তিলপাড়া ব্যারেজে জরুরি মেরামতির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। ৭ মে থেকে আগামী এক মাস ব্যারেজের উপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। বিকল্প রুটে চালানো হবে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যান।









