হাইকোর্ট ক্লাব ভোটে তৃণমূল বনাম তৃণমূল: অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ তীব্র

হাইকোর্ট ক্লাব ভোটে তৃণমূল বনাম তৃণমূল: অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ তীব্র

হাইকোর্ট ক্লাবের ভোটকে কেন্দ্র করে তৃণমূলপন্থীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ দেখা দিচ্ছে।কলকাতা হাইকোর্ট ক্লাব।২৫ নভেম্বর নির্ধারিত ভোটের আগে (বর্তমান উক্তি — ১৩ নভেম্বর ২০২৫)।তৃণমূল অনুমোদিত ‘অফিসিয়াল’ প্যানেল ও তার পাল্টা প্যানেলের আইনজীবীবৃন্দ, বিশেষত বিশ্বব্রত বসু মল্লিক এবং তরুণ চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থকরা।অফিসিয়াল সম্পাদক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ও পাল্টা প্যানেল জমা দেওয়ার ফলে শাসকশিবিরে ক্ষমতা ও স্বীকৃতিকে ঘিরে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে — যা আইনজীবী সমাজে জল্পনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

অফিসিয়াল প্যানেল বনাম পাল্টা প্যানেল

বোলপুর নয়—এবার কেন্দ্রস্থলে হাইকোর্ট ক্লাবের নির্বাচন। ক্লাবের জন্য তৃণমূলপন্থী এক অফিসিয়াল প্যানেল অনুমোদিত থাকলেও, অপর একটি প্যানেলও জমা পড়ে—যাদের বেশিরভাগই রাজ্য সরকার প্যানেলে নাম থাকা আইনজীবী। অফিসিয়াল প্যানেলের সম্পাদক পদপ্রার্থী বিশ্বব্রত বসু মল্লিক মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে অফিসিয়াল প্যানেল কার্যত ‘মুণ্ডহীন’ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে সামনে এনেছে।এই ধাক্কা-প্রতের প্রেক্ষিতে ক্লাবে এখন কার্যত দুই পক্ষের লড়াই। যে প্যানেলগুলোর কথা বলা হচ্ছে, তাদের কেউ কেউ দাবি করেন—পক্ষান্তরে দলের স্বীকৃতি ও ক্ষমতা ধরে রাখতেই তারা নেমেছেন। ফলে সাধারণ ক্লাব ভোট এখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বরূপ ধারণ করেছে।

কেন তীব্র: রাজ্য লিগাল সেলের পুনর্গঠন ও নেতৃত্বঝুকি

কয়েক মাস আগে তৃণমূলের রাজ্য লিগাল সেল চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে—মলয় ঘটক সরিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে এনে নানা পালাবদল হয়েছে। এরপর নতুন কমিটি ও আনুসঙ্গিক আইনজীবী নেটওয়ার্কে সরাসরি তৎপরতা বেড়েছে। তরুণ চট্টোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণ ও তালিকা-জমার খবর পটভূমিতে বিবাদকে জোরালো করেছে।এছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, ব্যক্তিগত প্রভাব ও মঞ্চ দখলের আকাঙ্ক্ষাও এই সংঘাতকে তীব্র করেছে—যেখানে ক্লাবের সভাপতিত্ব বা বিভিন্ন পদের জিত দলীয় স্বীকৃতি ও স্থানীয় ক্যান্সিভে গুরুত্ব বহন করে।

প্রতিবাদের স্বর: অভিযোগ, প্রত্যাহার ও আহত মানসিকতা

অফিসিয়াল প্যানেলের সমর্থকরা পাল্টা প্যানেল জমা দেওয়ার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে, মনোনয়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে দলীয় কুৎসা রটনার অভিযোগও উঠেছে—বিশ্বব্রতকে লক্ষ্য করে দলে থেকেই কুৎসা ছড়ানো হয়েছে বলে অনেকে দাবি করছেন।অন্যদিকে পাল্টা প্যানেলের আইনজীবীরা বলছেন, অনেক সময় বড় দলগুলোর ভেতর মতৈক্য স্বাভাবিক এবং ক্লাবের মতো নির্দল ঘর জেতার লক্ষ্যেই তারা 'নির্দল'ভাবে দাঁড়িয়েছে—বিশেষ করে বিজেপি ধরা আটকাতে। ফলে দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক ছাপ ফেলে ক্লাবের আচার-ব্যবহারেও প্রভাব ফেলছে।

আইনজীবী মহলের বিশ্লেষণ: শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত হবে?

স্থানীয় আইনজীবী মহলে প্রচলিত মানসিকতা হলো—অফিসিয়াল বা নির্দল বড় কথা নয়; শেষ পর্যন্ত যে জিতবে, তিনিই সিকান্দার। বহু নির্বাচনে এমন নজির দেখা গিয়েছে। তাই কিছু অংশের কাছে এই দ্বন্দ্ব কেবল পলিটিক্যাল কৌশল ও ক্যালকুলেশনের ফল।বিশ্লেষকরা বলছেন, মনোনয়ন প্রত্যাহার ও পাল্টা প্যানেলের কারণে ভোটের আগের দিনগুলোতে প্রচারণা, তহবিল ও সমর্থক ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখী উত্তেজনা দেখা যাবে—এতে ক্লাবের মৌলিক কার্যক্রমও প্রভাবিত হতে পারে।

হাইকোর্ট ক্লাবের ২৫ নভেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। শাসকদল অনুমোদিত ‘অফিসিয়াল’ প্যানেল ও তার পাল্টা তালিকা জমা হওয়ায় দলীয় শিবিরে বিভাজন গড়ে উঠেছে। মনোনয়ন প্রত্যাহার ও অভিযোগের ফলে ভোট প্রক্রিয়া এখন বহুবিধ জল্পনা ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a comment