হাত-পায়ের গাঁট ফুলে যাওয়া, গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা কিংবা অস্থিসন্ধিতে অস্বস্তি—এসবই বাড়তি ইউরিক অ্যাসিডের লক্ষণ হতে পারে। অনেকের ধারণা, মুসুর ডাল বা টমেটো খেলেই ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং এমন তিন ধরনের খাবার রয়েছে, যা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিড কেন বাড়ে?
চিকিৎসকদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয় পিউরিন নামের একটি উপাদান ভাঙার ফলে। সাধারণত কিডনির মাধ্যমে এই ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু অতিরিক্ত উৎপাদন বা নির্গমনে সমস্যা হলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড জমতে শুরু করে এবং বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা ও প্রদাহ দেখা দেয়।
এই ৩ খাবার ইউরিক অ্যাসিডের বড় শত্রু
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে এই খাবারগুলি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত—
লাল মাংস যেমন খাসি, ভেড়া, গরু ও শুয়োরের মাংস
সামুদ্রিক মাছ ও সি-ফুড, যেগুলিতে পিউরিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি
অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার, যা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে
শুধু খাবার নয়, আরও যেসব কারণে বাড়ে ইউরিক অ্যাসিড
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির কার্যকারিতায় সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, নিয়মিত মদ্যপান এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার সমাধান হয় না।
কী খেলে উপকার মিলতে পারে?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি—
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন
নিয়মিত হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করুন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান
ওষুধও হতে পারে জরুরি
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে অনেকেই ডাল, টমেটো বা পালং শাক খাওয়া বন্ধ করে দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল সমস্যা তৈরি করে অন্য তিন ধরনের খাবার। পাশাপাশি শুধু ডায়েট নয়, ওষুধ, পর্যাপ্ত জল ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।













