ভোটের আগেই কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছে বাংলা। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় চলছে সাঁজোয়া গাড়ির টহল, অলিতে গলিতে আধাসেনার কড়া নজরদারি। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই—অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ।
নজিরবিহীন বাহিনী মোতায়েন
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রথম দফার তুলনায় এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
কোন জেলায় কত বাহিনী?
উত্তর ২৪ পরগনায় সর্বাধিক ৫০৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪০৯, হাওড়ায় ২৫৭, নদিয়ায় ২৮৫ এবং হুগলিতে ৩১৭ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন থাকবে। কলকাতাতেও ২৭৩ কোম্পানি বাহিনী রাখা হয়েছে ৫,০০০-এর বেশি বুথের নিরাপত্তার জন্য।
জলপথেও কড়া নজরদারি
বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। জলপথে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর বোট (FIB) দিয়ে টহল চলছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যাতে কোনও অনুপ্রবেশ বা অশান্তি না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
পোস্টাল ব্যালট ও নাকা চেকিং
ইতিমধ্যেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট শুরু হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। জেলা জুড়ে নাকা চেকিং পয়েন্টে চলছে কড়া তল্লাশি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ৩৮ হাজারেরও বেশি কর্মী মোতায়েন থাকছেন।
কড়া নির্দেশ, দ্রুত ব্যবস্থা
প্রতিটি জেলায় নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে, যারা পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এমনকি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে হেলিকপ্টারও।
West Bengal Assembly Elections 2026-এর দ্বিতীয় দফার আগে গোটা রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, জলপথ-স্থলপথে কড়া নজরদারি—শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই কড়াকড়ি।











