বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বা অস্থিরতার সময় সাধারণত Gold ও Silver-এর দাম বাড়ে। কিন্তু এবার চিত্র একেবারে উল্টো। Iran Conflict চলাকালীনও সোনা-রুপোর বাজারে বড় পতন দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন এই ব্যতিক্রম? উত্তর লুকিয়ে আছে ডলার, সুদের হার এবং বিনিয়োগকারীদের বদলে যাওয়া মানসিকতায়।
ইতিহাস ভেঙে বর্তমান—কেন উল্টো পথে বাজার?
ইতিহাস বলছে, যুদ্ধ মানেই সোনার দাম বৃদ্ধি। ১৯৭৯-এর ইরান বিপ্লব বা ২০২২-এর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই সোনা লাফিয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবার কয়েক মাসে সোনার দাম প্রায় ১.৭৫ লাখ টাকা থেকে ১.৫ লাখের নিচে নেমেছে, রুপোও একইভাবে পড়েছে।
ডলারের দাপট—মূল খেলাটা এখানেই
বর্তমানে US Dollar অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা-রুপোর দাম ডলারে নির্ধারিত হয়।
ডলার শক্তিশালী হলে ভারত-চীনের মতো দেশগুলির জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে যায়, ফলে চাহিদা কমে এবং দাম পড়ে।
এখন অনেক বড় বিনিয়োগকারী সোনার বদলে ডলারকেই “সেফ হেভেন” হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা—বড় ধাক্কা সোনায়
Federal Reserve সুদের হার বাড়াতে পারে—এই আশঙ্কাই বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।
সোনা বা রুপোতে কোনও সুদ পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে, মার্কিন সরকারি বন্ড বা ব্যাংকে বেশি সুদ মিললে বিনিয়োগকারীরা সেদিকেই ঝুঁকছেন। ফলে সোনা বিক্রি বাড়ছে, দাম কমছে।
তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি—পরোক্ষ চাপ
ইরান ইস্যুতে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁয়েছে।
এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ফেড সুদের হার কমাবে না—এমন ধারণাই সোনা-রুপোর বাজারে চাপ তৈরি করছে।
বিনিয়োগের বদলে যাওয়া ট্রেন্ড
বর্তমানে বড় ফান্ড ও ব্যাংকগুলি সোনা থেকে টাকা তুলে মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ করছে।
কারণ সেখানে নিশ্চিত রিটার্ন রয়েছে, যা সোনায় নেই।
ফলে বাজারে সোনার সরবরাহ বাড়ছে, চাহিদা কমছে—এটাই দামের পতনের প্রধান কারণ।
ইরান সংঘাতের মধ্যেও সোনা ও রুপোর দাম কমছে—যা ইতিহাসের বিপরীত। মূল কারণ শক্তিশালী মার্কিন ডলার, সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা এবং বিনিয়োগকারীদের সেফ হেভেন হিসেবে নতুন পছন্দ।













