উইম্বলডন ২০২৬ টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে বুলগেরিয়ার অভিজ্ঞ খেলোয়াড় গ্রিগর দিমিত্রভ ১৫তম বাছাই চেক খেলোয়াড় জাকুব মেনসিককে চার সেটে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, মহিলা ডাবলসে ব্রিটেনের সব জুটি প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে।
লন্ডনে চলমান উইম্বলডন ২০২৬-এ ৩৫ বছর বয়সী গ্রিগর দিমিত্রভ ১৫তম বাছাই জাকুব মেনসিককে ৭-৬, ৪-৬, ৭-৫, ৬-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠেন। ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং দুই খেলোয়াড়ই উচ্চমানের টেনিস উপহার দেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দিমিত্রভের অভিজ্ঞতা ও সংযম তার তরুণ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পার্থক্য গড়ে দেয়।
ম্যাচ চলাকালীন বৃষ্টির কারণে আয়োজকদের সেন্টার কোর্টের চলমান ছাদ বন্ধ করতে হয়, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য খেলা স্থগিত থাকে।
ঘাসের কোর্টে আবহাওয়ার প্রভাব উইম্বলডনের একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এমন পরিস্থিতিতেও ছন্দ ধরে রাখা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পরও দিমিত্রভ নিজের মনোযোগ ধরে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন।
জয়ের পর গ্রিগর দিমিত্রভ জানান, বৃষ্টির সময় কোর্টের ছাদ বন্ধ করার মুহূর্তে তার গত বছরের সেই চোটের স্মৃতি ফিরে এসেছিল। তিনি বলেন, গত বছর সেন্টার কোর্টে ম্যাচ চলাকালীন পাওয়া চোটের কথা এক মুহূর্তের জন্য তার মনে পড়ে যায়। দিমিত্রভ হাসতে হাসতে বলেন, তিনি কয়েকবার ছাদের দিকে তাকিয়েছিলেন এবং মনে হয়েছিল ইতিহাস আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে পারে। তবে এবার সবকিছু ভালো হয়েছে এবং তিনি ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সেই ঘটনা এখন অতীত এবং তার সম্পূর্ণ মনোযোগ সামনে থাকা ম্যাচগুলোর দিকে।
নিজের বক্তব্যে দিমিত্রভ উইম্বলডনের প্রতি বিশেষ অনুরাগের কথাও জানান। তিনি বলেন, এখানে দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন ও ভালোবাসা এই টুর্নামেন্টকে তার কাছে অত্যন্ত বিশেষ করে তোলে। তার মতে, উইম্বলডন শুধু একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম নয়, বরং এমন একটি মঞ্চ যেখানে খেলোয়াড়রা নিজেদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো উপভোগ করেন। তিনি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের উৎসাহ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
![]()
জাকুব মেনসিক ম্যাচটি হারলেও পুরো ম্যাচজুড়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। দ্বিতীয় সেট জিতে তিনি ম্যাচে সমতা ফেরান এবং তৃতীয় সেট পর্যন্ত দিমিত্রভকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনসিক ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের একজন এবং এ ধরনের বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পুরুষ এককে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ দেখা গেলেও মহিলা ডাবলসে স্বাগতিক সমর্থকদের হতাশ হতে হয়েছে। ব্রিটেনের কেটি বুল্টার ও হিদার ওয়াটসনের জুটি দ্বিতীয় সেটের টাইব্রেকে চারটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে ম্যাচকে তৃতীয় সেটে নিয়ে যায়। তবুও পোল্যান্ডের কাটারজিনা পিটার এবং চেক প্রজাতন্ত্রের আন্না সিসকোভার জুটি ৬-৪, ৬-৭, ৬-৩ ব্যবধানে জিতে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠে।
মহিলা ডাবলস প্রতিযোগিতায় ব্রিটেনের জন্য ফলাফল হতাশাজনক ছিল। অলিভিয়া নিকোলস, জোডি বুরেজ এবং হ্যারিয়েট ডার্টসহ ব্রিটেনের সব ছয়টি মহিলা ডাবলস জুটি প্রথম রাউন্ডেই হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। স্বাগতিক সমর্থকদের আশা ছিল অন্তত কয়েকটি জুটি পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে, তবে তা হয়নি।
মহিলা বিভাগে হতাশার মধ্যেও পুরুষ ডাবলসে ব্রিটেনের আশা টিকে রয়েছে। হেনরি প্যাটেন এবং নিল স্কুপস্কি নিজেদের ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন। উভয় খেলোয়াড়ের কাছ থেকেই পরবর্তী রাউন্ডে ভালো ফলের প্রত্যাশা রয়েছে এবং স্বাগতিক সমর্থকেরা এখন তাদের দিকেই নজর রাখছেন।
টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ম্যাচগুলো ততই কঠিন হয়ে উঠছে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং তরুণ প্রতিভাদের মধ্যকার লড়াই দর্শকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টেনিস উপহার দিচ্ছে। গ্রিগর দিমিত্রভের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এগিয়ে চলেছেন, অন্যদিকে তরুণ খেলোয়াড়রাও নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন।










