শীতের হালকা রোদ আর ঠান্ডা হাওয়া যতটা আরামদায়ক, সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের কাছে ততটাই বিপজ্জনক। বিশেষ করে যাঁরা একজিমা বা সোরিয়াসিসে ভোগেন, তাঁদের কাছে শীতকাল কার্যত এক দীর্ঘ লড়াই। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত জল হারায়, বাড়ে শুষ্কতা ও প্রদাহ। ফল—ত্বকে জ্বালা, চুলকানি ও ক্ষতের সমস্যা।
শীতে কেন বাড়ে একজিমা ও সোরিয়াসিসের সমস্যা
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল স্তর ভেঙে পড়ে, দুর্বল হয়ে যায় স্কিন ব্যারিয়ার। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কারণেই শীতে একজিমা ও সোরিয়াসিসের লক্ষণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে—
অতিরিক্ত চুলকানি
ত্বক ফেটে রক্তপাত
খোসা ওঠা ও লালচে দাগ
জ্বালাপোড়া ও ব্যথা
বড় ভুল: গরম জলে দীর্ঘক্ষণ স্নান
অনেকেই শীতে আরাম পেতে খুব গরম জলে স্নান করেন। কিন্তু এটি একজিমা ও সোরিয়াসিস রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। গরম জল ত্বকের প্রাকৃতিক তেল আরও দ্রুত ধুয়ে ফেলে, ফলে শুষ্কতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ—
হালকা উষ্ণ জলে অল্প সময় স্নান
দীর্ঘক্ষণ গরম জলে থাকা এড়িয়ে চলুন
ময়েশ্চারাইজার বাছাইয়ে ভুল করবেন না
শীতে ত্বক ভালো রাখতে ময়েশ্চারাইজারই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে সব লোশন সমান কার্যকর নয়।
লোশনের বদলে ক্রিম বা মলম ব্যবহার করুন
সুগন্ধিমুক্ত ও হাইপোঅ্যালার্জেনিক প্রোডাক্ট বেছে নিন
স্নানের ৩ মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার লাগানো সবচেয়ে কার্যকর
নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ নয়
চুলকানি কমাতে অনেকেই নিজের ইচ্ছেমতো স্টেরয়েড বা মেডিকেটেড ক্রিম ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও ঔষধযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করবেন না
দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে অবহেলা নয়, দ্রুত চিকিৎসা জরুরি
পোশাকেও লুকিয়ে বিপদ
শীতকালে সিন্থেটিক বা উলের পোশাক অনেক সময় ত্বকে জ্বালা বাড়িয়ে দেয়।
নরম, ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন
ত্বকে ঘষা লাগে এমন কাপড় এড়িয়ে চলুন
শীতকাল মানেই শুষ্ক আবহাওয়া, কম আর্দ্রতা আর ত্বকের উপর বাড়তি চাপ। এই সময় একজিমা ও সোরিয়াসিসে আক্রান্তদের জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। সামান্য অসতর্কতায় বেড়ে যেতে পারে চুলকানি, ফাটল, লালচে ভাব ও ব্যথা। কোন কোন ভুল শীতে একেবারেই করা যাবে না, আর কীভাবে ত্বককে সুরক্ষিত রাখবেন—জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।













