শীতে গাছের পোকা তাড়াতে রান্নাঘরের দুই সবজি! মরা গাছও ফেরাবে সবুজ নতুন পাতা

শীতে গাছের পোকা তাড়াতে রান্নাঘরের দুই সবজি! মরা গাছও ফেরাবে সবুজ নতুন পাতা

শীতের মরসুমে বাগানের গাছপালার উপর পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়—এফিড, থ্রিপস, মাইট, মিলিবাগ থেকে শুরু করে কান্ড ছিদ্রকারী পোকা পর্যন্ত। Gardening Tips: এই পোকামাকড় গাছের রস চুষে নিয়ে পাতা বিকৃত করে, ফুল ঝরিয়ে দেয় এবং গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ডঃ সি.কে. ত্রিপাঠীর মতে, শীতের এই সমস্যায় রান্নাঘরের আদা ও কাঁচা লঙ্কার রস স্প্রে করলে পোকামাকড় দ্রুত নষ্ট হয় এবং গাছ আবার সতেজ হয়ে ওঠে। মরা বা দুর্বল গাছেও দেখা যায় নতুন সবুজ পাতা।

শীতকালে পোকার দাপট বাড়ে, বিপদে বাগানের গাছ

শীত এলেই নানা ধরনের পোকামাকড় গাছে আক্রমণ শুরু করে। বিশেষ করে মিলিবাগ, এফিড, থ্রিপস, মাকড়সা মাইট—এই পোকাগুলির উপদ্রব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সাদা তুলোর মতো মিলিবাগ ধীরে ধীরে ফুল, কুঁড়ি, পাতা ও কচি কান্ডের রস শুষে গাছকে দুর্বল করে দেয়। অপরদিকে ছোট সবুজ, হলুদ বা কালো রঙের এফিড ফুলের রস খেয়ে কুঁড়ি শুকিয়ে দেয়, ফলে গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়।

মিলিবাগ–এফিডের আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত গাছ, কীভাবে বুঝবেন?

গাছের পাতায় আঠালো ভাব, ফুলের কুঁড়ি শুকিয়ে যাওয়া, পাতার রং ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া—এ সবই পোকামাকড়ের আক্রমণের লক্ষণ। কিছু ক্ষেত্রে শিকড় পর্যন্ত ক্ষতি করে কান্ড ছিদ্রকারী পোকা। ফলে গাছ ধীরে ধীরে মরে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতেই এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কারণ আবহাওয়া শুষ্ক এবং ঠান্ডা থাকায় পোকামাকড় দ্রুত বংশবিস্তার করে।

ঘরোয়া টোটকার জনপ্রিয়তা—কেন কার্যকর আদা ও কাঁচা লঙ্কা?

গাছকে বাঁচাতে বাজারের অনেক রাসায়নিক ও কীটনাশক পাওয়া যায়। তবে সবাই এগুলো ব্যবহার করতে চান না—গাছের স্বাস্থ্যের জন্য এবং পরিবেশের স্বার্থে অনেকেই ঘরোয়া প্রতিকারের উপর ভরসা করেন। আদা ও কাঁচা লঙ্কার রস পোকামাকড়ের জন্য অত্যন্ত তীব্র। এই রস পাতায় স্প্রে করলে পোকাদের শ্বাসযন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং তারা দ্রুত মরে যায়।

কীভাবে তৈরি করবেন আদা–লঙ্কার পেস্ট ও রস?

এক মুঠো আদা ও ৩–৪টি কাঁচা লঙ্কা একসঙ্গে পেস্ট করে নিন।

একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে সেই পেস্ট ছেঁকে নিন।

পাওয়া রস একটি বোতলে সংগ্রহ করুন।

এরপর সেই রস ১ লিটার জলের সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে নিন।

এই মিশ্রণ সপ্তাহে অন্তত দুই দিন গাছে ছিটিয়ে দিলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

কীভাবে স্প্রে করলে গাছ সবচেয়ে বেশি উপকার পায়?

রোদ ওঠার পর বা বিকেলের দিকে স্প্রে করা সবচেয়ে ভালো। খুব ধুলো থাকলে আগে গাছকে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। পাতা, কুঁড়ি, কান্ড—সব অংশে সমানভাবে রস ছিটিয়ে দিন। ৩–৪ দিন এই প্রক্রিয়া চালালে মিলিবাগ থেকে মাইট—সব পোকাই ধীরে ধীরে চলে যায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ আবার সতেজ হয়ে ওঠে।

মরা গাছেও দেখা যাবে নতুন পাতা—কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

ডঃ সি.কে. ত্রিপাঠীর মতে, যেসব গাছ দীর্ঘদিন পোকার আক্রমণে দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেগুলিও আদা–লঙ্কার রসের নিয়মিত ব্যবহারে ধীরে ধীরে চাঙ্গা হতে শুরু করে। পাতার কোষে রসের জ্বালাভাব পোকাদের দূরে রাখে, ফলে গাছ নিজের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে পায় এবং নতুন সবুজ পাতা গজায়।

রাসায়নিক ও ঘরোয়া চিকিৎসা একসঙ্গে করলে কী লাভ?

অতিরিক্ত পোকার ক্ষেত্রে শুধু ঘরোয়া প্রতিকার যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে হালকা জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক যাই ব্যবহার করা হোক—তার পরে ঘরোয়া আদা–লঙ্কার রস সপ্তাহে দুইবার স্প্রে করলে ফল আরও দ্রুত পাওয়া যায়।

শীতকালে বাগানের গাছে মিলিবাগ, এফিড, মাইট, থ্রিপস-সহ নানা পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরের সহজ দুটি উপাদান—আদা ও কাঁচা লঙ্কার রস—এই পোকামাকড় দূর করতে দারুণ কার্যকর। নিয়মিত স্প্রে করলে গাছ দ্রুত চাঙ্গা হয়ে ওঠে এবং নতুন সবুজ পাতা গজায়।

Leave a comment