ত্বকের জেল্লা ও দৃঢ়তা ধরে রাখতে কোলাজেনের ভূমিকা অপরিসীম। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের স্বাভাবিক উৎপাদন কমে যায়। এই সময় ত্বকে বলিরেখা পড়া, শুষ্কতা ও টান কমে যাওয়া দেখা দেয়। তবে কিছু খাবার নিয়মিত খেলে শরীর আবার স্বাভাবিকভাবে কোলাজেন তৈরি করতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ছয় ধরনের বিশেষ খাবার রাখলে ত্বক আগের মতো উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান থাকে।
কোলাজেন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ত্বক, চুল ও নখকে শক্ত ও সুস্থ রাখতে কোলাজেন এক অত্যন্ত জরুরি প্রোটিন। শুধু সৌন্দর্যই নয়—ত্বককে বাইরের দূষণ ও ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করতেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। অথচ বয়স তিরিশ পেরোলেই শরীরে কোলাজেন উৎপাদন হঠাৎ কমে যেতে থাকে। তাই খাদ্যতালিকায় কোলাজেন-বর্ধক খাবার রাখা আজকের দিনে অপরিহার্য।
সাইট্রাস জাতীয় ফল: ভিটামিন সি–এর প্রাকৃতিক জোগান
কমলালেবু, লেবু, কিউই বা আঙুর—এই সব সাইট্রাস ফলে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি।ত্বকে কোলাজেন তৈরিতে ভিটামিন সি হল মূল চাবিকাঠি। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন—ত্বক উজ্জ্বল রাখা, দাগ কমানো, ত্বকের শুষ্কতা দূর করা—সব ক্ষেত্রেই সাইট্রাস ফল অত্যন্ত কার্যকর।
বেরি ফল: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ‘স্কিন-হিরো’
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি—এই সব বেরিতে থাকে বিপুল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি।এরা ত্বকের ক্ষতি রোধ করে, কোষ পুনর্গঠন বাড়ায় এবং কোলাজেন সংশ্লেষণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।প্রতিদিনের ব্রেকফাস্ট বা স্ন্যাকে একমুঠো বেরি রাখলে কয়েক সপ্তাহেই ত্বকের উজ্জ্বলতা চোখে পড়ার মতো বাড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সামুদ্রিক খাবার: ওমেগা-৩ বাড়িয়ে দেয় কোলাজেন গঠন
স্যামন, টুনা, সার্ডিন বা চিংড়ি—এই সব সামুদ্রিক খাবারে প্রচুর ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে।ওমেগা–৩ শুধু ত্বকের ইনফ্ল্যামেশন কমায় না, কোলাজেন তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করে।ত্বককে টানটান রাখা, শুষ্কতা দূর করা, বলিরেখা কমানো—সব ক্ষেত্রেই মাছ অত্যন্ত কার্যকর খাদ্য।
সবুজ শাকসবজি: ভিটামিন এ ও সি–র ‘স্কিন রিপেয়ার’ কম্বো
পালং শাক, মেথি, কলমি—পাতাযুক্ত সব শাকে থাকে ভিটামিন এ, সি ও প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।ভিটামিন এ ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে এবং কোলাজেন উৎপাদনকে স্বাভাবিক রাখে।অন্যদিকে ভিটামিন সি কোলাজেন গঠনে সরাসরি কাজ করে। ফলে ত্বক হয় উজ্জ্বল, নরম ও দাগহীন।
দই ও ফারমেন্টেড খাবার: অন্ত্র ভালো থাকলেই ত্বক ভালো
প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ দই হজমশক্তি বাড়ায় ও পুষ্টি শোষণ উন্নত করে।যখন অন্ত্র সুস্থ থাকে, তখন শরীর কোলাজেন তৈরি করতে আরও সক্ষম হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন এক বাটি দই ত্বকের জন্য ‘ইন্টারনাল স্কিন কেয়ার’ হিসেবে কাজ করে।
ডিম: প্রোলিন ও বায়োটিন—দুই পুষ্টির সোনালি উৎস
ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোলিন কোলাজেন তৈরির অন্যতম প্রধান অ্যামাইনো অ্যাসিড।অন্যদিকে কুসুমে থাকা বায়োটিন চুল, ত্বক ও নখকে ভেতর থেকে মজবুত রাখে।ত্বকের কোলাজেন বাড়াতে প্রতিদিন একটি ডিম অত্যন্ত কার্যকর।
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে কোলাজেন কমে যায়, ফলে ত্বক ঢিলে পড়া, বলিরেখা ও জেল্লা হারানোর সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়েটে কিছু নির্দিষ্ট খাবার যোগ করলে শরীর স্বাভাবিকভাবে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। ফল, মাছ, সবুজ শাক থেকে ডিম—জানুন কোন খাবারগুলি সবচেয়ে কার্যকর।













