আগ্রা থেকে লখনউয়ে পৌঁছে এক নারী পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে একটি উচ্চভোল্টেজ/মোবাইল টাওয়ারে উঠে বিক্ষোভ করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁর সন্তানের সঙ্গে মারধর করেছে এবং তাঁর টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় টাওয়ারের ওপর অবস্থান করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনীর দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনে।
নারী টাওয়ারে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলের আশপাশে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতিতে ভিড়ের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত লোকজন তাঁকে নিচে নামার অনুরোধ জানালেও তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে অবস্থান চালিয়ে যান।
নারীর দাবি, পুলিশ তাঁর সন্তানের সঙ্গে মারধর করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা তাঁর টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি আগ্রা থেকে লখনউয়ে এসে টাওয়ারে ওঠেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অল্প সময়ের মধ্যেই দমকল বাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় বোঝানোর পর নারী নিচে নামতে রাজি হন এবং দমকলের দল তাঁকে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে আনে।
নিচে নামানোর পর পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলে এবং পুরো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে। বর্তমানে পুলিশ তাঁর আনা অভিযোগের তদন্ত করছে। তাঁর সন্তানের সঙ্গে কথিত মারধরের ঘটনা কবে এবং কোথায় ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নারীর টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। তাঁর কাছে কত টাকা ছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে সেই টাকা হারিয়ে যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ঘটনার সময় টাওয়ারের আশপাশে বিপুল ভিড় জমে যায়। নারী টাওয়ারের ওপর অবস্থান করায় তাঁকে নিরাপদে নামানোই পুলিশ ও দমকল বিভাগের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল। তাড়াহুড়ো করলে তাঁর পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকাজ সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়।
দমকল কর্মীরা টাওয়ারে উঠে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং নিচে নামার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। একাধিক প্রচেষ্টার পর তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানো সম্ভব হয়।
পুলিশ এখন নারীর বক্তব্য এবং তাঁর আনা অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। তিনি সন্তানের ওপর মারধর এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তদন্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
ঘটনার পর প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাঁকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তিনি কেন আগ্রা থেকে লখনউয়ে এসেছিলেন এবং টাওয়ারে ওঠার আগে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় ভিড়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও নারীকে নিরাপদে নিচে নামানোর কাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যেকোনো অভিযোগ বা অভিযোগের তদন্ত আইন অনুযায়ী করা হবে। নারীর অভিযোগে তথ্য-প্রমাণ মিললে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে টাওয়ারে উঠে নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার ঘটনায়ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।
বর্তমানে দমকল বাহিনীর তৎপরতায় নারীকে নিরাপদে নিচে নামানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁর সন্তানের সঙ্গে মারধর করেছে এবং তাঁর টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ বর্তমানে নারীর অভিযোগ এবং পুরো ঘটনাক্রমের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








